Home সারাদেশ ছদ্মবেশী ‘সম্রাট’ আসলে সিরিয়াল কিলার সবুজ

ছদ্মবেশী ‘সম্রাট’ আসলে সিরিয়াল কিলার সবুজ

৬ হত্যার রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সাভারের জনবহুল এলাকায় ভবঘুরে সেজে দিনের পর দিন ঘুরে বেড়ানো ‘সম্রাট’ আসলে এক দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার। যার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। সম্প্রতি সাভারের পরিত্যক্ত একটি ভবনে জোড়া খুনের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই ভয়ংকর অপরাধীর আসল পরিচয় ও তার হাতে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে এই ঘাতক।
পরিচয় জালিয়াতি ও সন্দেহজনক জীবনযাপন
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত সবুজ শেখ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার মৌছামান্দ্রা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। নিজেকে স্থানীয় এক কাউন্সিলরের নামের সঙ্গে মিলিয়ে ‘সম্রাট’ পরিচয় দিয়ে সাভার এলাকায় ঘুরে বেড়াত সে। কখনো পুলিশি ক্যাপ বা পোশাক পরে তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘুরতে দেখা যেত। এমনকি নিজের বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানাও মিথ্যা দিয়েছিল সে। এর আগে সে কাশিমপুর কারাগারেও বন্দি ছিল, যেখানে তার আচরণ ছিল অত্যন্ত সহিংস ও বেপরোয়া।
যেভাবে ধরা পড়ল ঘাতক
সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে সম্প্রতি এক যুবক ও এক তরুণীকে (তানিয়া আক্তার) হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মরদেহ কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে। এই সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ সবুজকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার দীর্ঘদিনের অপরাধের খতিয়ান।
কেন এই হত্যাকাণ্ড?
পুলিশ সবুজকে একজন ‘সাইকোপ্যাথ’ বা বিকৃত রুচির মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছে। সবুজের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী:
সে ভবঘুরে নারীদের ফুসলিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করত।
শারীরিক সম্পর্কের পর ওই নারীরা অন্য কারও সঙ্গে মেলামেশা করলে বা অনৈতিক কাজে জড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তাদের হত্যা করত।
সর্বশেষ জোড়া খুনের ক্ষেত্রেও ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য এক যুবককে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে প্রথমে যুবককে এবং পরে তরুণীকে হত্যা করে প্রমাণ নষ্ট করতে মরদেহ পুড়িয়ে দেয়।
পূর্ববর্তী অপরাধ ও নিখোঁজ ডায়েরি
তদন্তে দেখা গেছে, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাভারের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক অজ্ঞাত লাশের নেপথ্যে ছিল এই সবুজ। ২০২৫ সালের আগস্ট, অক্টোবর ও ডিসেম্বরে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গেও তার সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
পরিবার ও এলাকাবাসীর বক্তব্য
মুন্সীগঞ্জে সবুজের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, সে এলাকায় ছিঁচকে চোর ও ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত ছিল। তার পরিবার দাবি করেছে, সবুজ মানসিকভাবে অসুস্থ এবং সে প্রায়ই একা একা কথা বলত। তবে তার এই ‘অসুস্থতা’র আড়ালে যে এমন ভয়ংকর এক খুনি লুকিয়ে ছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ।
বর্তমানে আদালতের নির্দেশে সবুজ শেখ কারাগারে রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাগুলোতে অন্য কেউ তাকে সহায়তা করেছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ আরও গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।