Home First Lead আটকে পড়া বাংলাদেশের ৬ জাহাজকে ইরানের ছাড়পত্র

আটকে পড়া বাংলাদেশের ৬ জাহাজকে ইরানের ছাড়পত্র

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী

স্বস্তি শিপিং সেক্টর ও নাবিকদের পরিবারে

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:
ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবশেষে মুক্ত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাহাজগুলোকে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান সরকার। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিল এই সবুজ সংকেত দেওয়ার পাশাপাশি জাহাজগুলোর নিরাপদ যাত্রায় সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আজ বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী
সংবাদ সম্মেলনের মূল পয়েন্টসমূহ:
নিরাপত্তা কাউন্সিলের সবুজ সংকেত: রাষ্ট্রদূত জানান, কারিগরি ও কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করা বাংলাদেশের ৬টি জাহাজকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল চলাচলের অনুমতি প্রদান করেছে।
সহযোগিতার আশ্বাস: ইরান সরকার কেবল জাহাজগুলো ছেড়েই দিচ্ছে না, বরং পারস্য উপসাগর ত্যাগের আগ পর্যন্ত জাহাজগুলোকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানেরও নিশ্চয়তা দিয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন: রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের খাতিরেই এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উদ্বেগের অবসান: জাহাজগুলোতে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে ইরান সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার অজুহাতে বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশের পতাকাবাহী এবং বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোট ছয়টি জাহাজ ছিল। ফলে জাহাজে থাকা বাংলাদেশি নাবিকদের নিরাপত্তা এবং মূল্যবান পণ্য খালাস নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
রাষ্ট্রদূত সংবাদ সম্মেলনে বলেন:

“বাংলাদেশ ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা এই জাহাজগুলোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছি। ইরানের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ে জাহাজগুলো তাদের গন্তব্যে রওনা হতে পারে।”

জাহাজগুলোর গন্তব্য
অনুমতি পাওয়ার পর জাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালি পার হয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করবে। জাহাজগুলো মূলত তৈরি পোশাক, কাঁচামাল এবং জ্বালানি তেল পরিবহন করছিল বলে জানা গেছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে জাহাজগুলোর অবস্থান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বস্তি ফিরেছে শিপিং সেক্টর এবং নাবিকদের পরিবারগুলোর মধ্যে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজগুলো তাদের নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পূর্ণ গতিতে যাত্রা শুরু করবে। এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইরানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।