আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ইউরোপের বিড়ালপ্রেমীদের জন্য এক মহোৎসবের দিন। ইতালি ও পোল্যান্ডসহ মহাদেশটির বেশ কিছু দেশে আজ পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় বিড়াল দিবস’। গৃহপালিত এই আদুরে প্রাণীটির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে আশ্রয়হীন বিড়ালদের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই দিনটি উদযাপন করা হয়।
উদযাপনের নেপথ্য ইতিহাস
ইতালিতে এই দিবসটির সূচনা হয় ১৯৯০ সালে। বিশিষ্ট বিড়ালপ্রেমী সাংবাদিক ক্লডিয়া আঙ্গেলেত্তি (Claudia Angeletti) ‘তুত্তোগাত্তো’ (Tuttogatto) নামক ম্যাগাজিনের পাঠকদের কাছে একটি ভোটের আয়োজন করেছিলেন যে, কোন দিনটিকে বিড়ালদের জন্য উৎসর্গ করা যায়। পাঠকদের রায়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি দিনটি নির্বাচিত হয়।
পরবর্তীতে ২০০৬ সালে পোল্যান্ডে ‘ক্যাট ক্লাব লডজ’-এর উদ্যোগে দিনটি পালন শুরু হয় এবং দ্রুতই তা জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি কেন বেছে নেওয়া হলো?
এই তারিখটি নির্বাচনের পেছনে রয়েছে দারুণ কিছু পৌরাণিক ও জ্যোতিষতাত্ত্বিক কারণ:
স্বাধীন চেতনার প্রতীক: ফেব্রুয়ারি মাসটি রাশিচক্রের ‘কুম্ভ’ (Aquarius) রাশির অন্তর্ভুক্ত। কুম্ভ রাশির জাতকদের মতো বিড়ালকেও মনে করা হয় অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ও নিয়ম-অমান্যকারী প্রাণী।
কুসংস্কারের জয়: ইতালীয় সংস্কৃতিতে ‘১৭’ সংখ্যাটিকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক ধরা হয় (যেমনটা পশ্চিমা বিশ্বে ১৩)। অন্যদিকে কালো বিড়ালকেও দুর্ভাগ্যের প্রতীক মনে করা হতো। এই কুসংস্কার ভাঙতেই ১৭ তারিখকে বিড়ালদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।
সাত জন্ম: রোমান সংখ্যায় ১৭-কে লেখা হয় XVII, যার একটি অ্যানাগ্রাম হলো ‘VIXI’ (ল্যাটিন ভাষায় যার অর্থ—’আমি বেঁচেছিলাম’ বা ‘আমার জীবন শেষ’)। বিড়ালের ক্ষেত্রে বলা হয় তাদের সাতটি জীবন থাকে, তাই এই সংখ্যার মাধ্যমে বিড়ালের অমরত্ব ও পুনর্জন্মের ধারণাকে উদযাপন করা হয়।
যেভাবে পালিত হচ্ছে আজকের দিনটি
ইতালি ও পোল্যান্ডের শহরগুলোতে আজ ভিন্ন আমেজ বিরাজ করছে।
দাতব্য কার্যক্রম: স্থানীয় পশু আশ্রয়কেন্দ্রগুলো (Shelters) বিড়াল দত্তক নেওয়ার বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। গৃহহীন বিড়ালদের জন্য খাবার ও তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ফটো প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ বিড়ালের ছবি ও ভিডিওতে সয়লাব। অনেক শহরে সেরা বিড়ালের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
ক্যাট ক্যাফেতে ভিড়: ওয়ারশ এবং রোমের ক্যাট ক্যাফেগুলোতে আজ বিড়ালপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্যাফেতে বিড়ালদের জন্য বিশেষ ‘ট্রিট’ বা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দিবস পালনের ফলে সমাজে প্রাণীদের প্রতি সহিংসতা কমে এবং সাধারণ মানুষ পোষা প্রাণীর দায়িত্ব গ্রহণে আরও সচেতন হয়।
এ ধরনের আরও তথ্য ও আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মতামত মন্তব্য করে জানান।