Home বিনোদন আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য:জামাইদের ‘মাছ লড়াই’

আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য:জামাইদের ‘মাছ লড়াই’

সংগৃহীত ছবি
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, গাজীপুর: আড়াইশ বছরের প্রাচীন ‘জামাই মেলা’। প্রতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এই মেলাটি কেবল একটি লোকজ উৎসব নয়, বরং স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিশাল প্রাণসঞ্চারকারী ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।
বিনিরাইল ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে এই মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ থাকে বছরজুড়ে। মূলত পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই মেলাটি এখন এ অঞ্চলের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এটি এখন একটি সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।
জামাইদের আভিজাত্য ও মাছের লড়াই
মেলার মূল আকর্ষণ হলো জামাইদের মধ্যে বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা। শ্বশুরবাড়িতে নিজের আভিজাত্য তুলে ধরতে জামাইরা সেরা মাছটি কিনতে মরিয়া থাকেন। অন্যদিকে, মেয়ের জামাইকে আপ্যায়ন করতে শ্বশুররাও বড় মাছের সন্ধানে মেলা চষে বেড়ান। মেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা মো. আলী হোসেন বলেন, “শুরুতে এটি খুব ছোট পরিসরে কেবল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজন ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এর আবেদন বেড়েছে। মাছের এই মেলাটি এখন আমাদের অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক এবং গ্রামীণ অর্থনীতির এক বড় শক্তি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মাছের সমাহার
এবারের মেলায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় চার শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী এসেছেন। মেলায় বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, সামুদ্রিক চিতল ও বড় বড় গলদা চিংড়িসহ দেশি-বিদেশি মাছের বিশাল সমারোহ দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বড় বড় মাছ উঁচিয়ে ধরে হাঁকডাক দিচ্ছেন।
মেলায় আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের আভা। দীর্ঘ সময় পর বড় বাজার পেয়ে ব্যবসায়ীরাও খুশি।
মাছ বিক্রেতা রহমত আলী জানান: “আমি প্রতি বছর চট্টগ্রাম থেকে বড় মাছ নিয়ে এই মেলায় আসি। এখানকার মানুষ দাম নিয়ে খুব একটা দর কষাকষি করে না যদি মাছটি পছন্দ হয়। একদিনেই আমার কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে।”
স্থানীয় এক জামাই মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন: “শ্বশুরবাড়িতে আসছি মেলা উপলক্ষে। বড় একটি বাঘাইড় মাছ কিনেছি। দাম একটু বেশি হলেও এই মেলার আনন্দই আলাদা। এটি কেবল মাছ কেনা নয়, বরং আত্মীয়দের সাথে মিলনমেলার একটি বড় সুযোগ।”
বৈচিত্র্যময় গ্রামীণ বাজার
মাছ ছাড়াও মেলায় আসবাবপত্র, খেলনা ও মিষ্টির দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। স্থানীয়রা মনে করেন, এই মেলার মাধ্যমে গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এক বিশাল বিক্রয় কেন্দ্র তৈরি হয়, যা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।