নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম: বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না এবং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখলেও কাউকে ‘প্রভু’ হিসেবে গ্রহণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আধিপত্যবাদ ও সার্বভৌমত্ব
বিগত বছরগুলোতে সীমান্তে ঘটে যাওয়া ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে আর কোনো ফেলানীকে কাঁটাতারে ঝুলতে হবে না। এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের। আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু কারও দাসত্ব বা প্রভুত্ব মেনে নেব না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো পরিবারতন্ত্র বা গোষ্ঠীতন্ত্র নয়, বরং সাম্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
জুলাই বিপ্লব ও শহীদানদের ঋণ
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “১,৪০০ শহীদের রক্ত এ জাতির ঋণের বোঝা। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে রক্ত দিয়েছে। আমরা তাদের এই আত্মত্যাগের সঙ্গে কোনোভাবেই বেইমানি করব না।”
নারী নিরাপত্তা ও অধিকার
সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন:
- মা, বোন ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে প্রধান লক্ষ্য।
- গৃহে, কর্মস্থলে এবং চলাচলের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
- জাত-ধর্ম নির্বিশেষে নারী জাতির সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব।
উত্তরবঙ্গ ও কুড়িগ্রামের উন্নয়ন
কুড়িগ্রামের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নদীভাঙন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গত ৫৪ বছরে নদী শাসনের নামে শুধু লুটপাট হয়েছে। জনগণের লুট হওয়া অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনা হবে।” তিনি অঙ্গীকার করেন যে, ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে দেশের সবচেয়ে অবহেলিত জেলা কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়নের সূচনা হবে এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি-শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি: জনসভার শেষ পর্যায়ে তিনি কুড়িগ্রামের ৪টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। একইসঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও জনমত যাচাইয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।










