আপনার পিসি কি আসলেও ঠিক হচ্ছে?
সিরিজ প্রতিবেদন
পকেটে সিঁধ: ভোক্তার প্রতিদিনের লড়াই
কামরুল হাসান
ল্যাপটপ বা কম্পিউটার হঠাত নষ্ট হয়ে গেলে আমরা দ্রুত কাছের কোনো সার্ভিসিং সেন্টারে ছুটি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার অজান্তেই আপনার দামী ল্যাপটপের অরিজিনাল র্যাম (RAM) বা হার্ডডিস্ক বদলে সস্তা কোনো পুরনো পার্টস লাগিয়ে দেওয়া হতে পারে? “মাদারবোর্ড নষ্ট” বলে হাজার হাজার টাকা বিল করা, অথচ আসলে সামান্য একটি ক্যাবল লুজ হওয়া—এমন ঘটনা কম্পিউটার মেরামতের দোকানে অহরহ ঘটছে। এই ‘টেক-জালিয়াতি’ কেবল আপনার টাকা নষ্ট করছে না, আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের (Privacy) নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বিজনেসটুডে২৪-এর অনুসন্ধানে কম্পিউটার সার্ভিসিং বাজারের কিছু চতুর জালিয়াতি বেরিয়ে এসেছে।
কম্পিউটার মেরামতে যেভাবে চলে ‘ডিজিটাল’ জালিয়াতি
১. পার্টস অদলবদল (Parts Swapping): সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হয় ইন্টারনাল কম্পোনেন্ট নিয়ে। আপনি ল্যাপটপ রেখে আসার পর আপনার অরিজিনাল ৮ জিবি র্যাম খুলে ৪ জিবি লাগিয়ে দেওয়া বা ব্র্যান্ডের ব্যাটারি বদলে লোকাল ব্যাটারি লাগিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণ ব্যবহারকারীরা ভেতরে খুলে দেখেন না বলে এই চুরি ধরা প্রায় অসম্ভব।
২. ছোট সমস্যাকে ‘বড়’ করে দেখানো: হয়তো আপনার কম্পিউটারের উইন্ডোজ ক্রাশ করেছে বা ডিসপ্লে ক্যাবল লুজ হয়েছে। অসাধু টেকনিশিয়ান বলবে “মাদারবোর্ড বা আইসি পুড়ে গেছে, ৫০০০ টাকা লাগবে”। আসলে তারা সামান্য রি-সেট করেই আপনার কাছ থেকে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
৩. ব্যবহৃত ও রিফারবিশড পার্টসকে ‘নতুন’ বলা: ল্যাপটপের কিবোর্ড, মাউস বা এসএসডি (SSD) পরিবর্তনের সময় পুরনো বা মেরামত করা (Refurbished) পার্টস নতুনের মতো প্যাকেট করে লাগানো হয়। এগুলো কয়েক মাস পরেই আবার নষ্ট হয়ে যায়, কারণ এগুলোর কোনো অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি থাকে না।
৪. ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও ব্ল্যাকমেইল: সার্ভিসিংয়ে ল্যাপটপ দেওয়ার সময় অনেকে ব্যক্তিগত ছবি বা ফাইল ডিলিট করেন না। অসাধু টেকনিশিয়ানরা আপনার হার্ডড্রাইভ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য কপি করে নিতে পারে, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল বা সাইবার অপরাধের কাজে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ল্যাপটপ বা পিসি মেরামতের সময় সতর্ক হতে যা করবেন:
-
- পার্টসের ছবি বা সিরিয়াল নম্বর রাখুন: ল্যাপটপ জমা দেওয়ার আগে আপনার র্যাম, হার্ডডিস্ক এবং ব্যাটারির সিরিয়াল নম্বরের ছবি তুলে রাখুন। ফেরত নেওয়ার সময় সেগুলো মিলিয়ে দেখুন।
- সামনে বসে কাজ করান: ছোটখাটো সমস্যা হলে টেকনিশিয়ানের সামনে বসেই মেরামত করান। যদি ল্যাপটপ রেখে আসতে হয়, তবে অবশ্যই একটি অফিশিয়াল রিসিট নিন যেখানে আপনার ল্যাপটপের সব স্পেসিফিকেশন লেখা থাকবে।
- ডেটা ব্যাকআপ ও পাসওয়ার্ড: সার্ভিসিংয়ে দেওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইলের ব্যাকআপ নিয়ে হার্ডড্রাইভ ফরম্যাট করে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। অন্তত আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো লগ-আউট নিশ্চিত করুন।
- পুরনো পার্টস ফেরত নিন: যদি কোনো পার্টস পরিবর্তন করতে হয়, তবে আপনার ল্যাপটপের পুরনো বা নষ্ট পার্টসটি অবশ্যই ফেরত চাইবেন। এটি নিশ্চিত করবে যে আপনার পার্টসটি আসলেও পরিবর্তন করা হয়েছে।
সতর্কতা: ল্যাপটপ বা পিসি মেরামতের জন্য সব সময় ব্র্যান্ডের অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার বা নামী চেইন শপ বেছে নিন। রাস্তার ধারের সস্তা দোকানে দামী ডিভাইস দেওয়া মানেই বড় ঝুঁকি। কোনো বড় জালিয়াতির শিকার হলে ভোক্তা অধিকারের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন।










