Home Third Lead বিশ্ববাজারে জাহাজ ভাড়ায় ধস, স্বস্তিতে আমদানিকারকরা

বিশ্ববাজারে জাহাজ ভাড়ায় ধস, স্বস্তিতে আমদানিকারকরা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বিশ্বজুড়ে কন্টেইনার ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করায় বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। লোহিত সাগর রুট পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা এবং চীন নববর্ষের ছুটির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে কন্টেইনার ভাড়া প্রায় ৪.৭% কমেছে। বর্তমানে এশিয়া-ইউরোপ রুটে ৪০ ফুট কন্টেইনারের ভাড়া ২,১০৭ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্ববাজারের এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশে কেমন হতে পারে, তা নিয়ে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইন ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সাথে কথা বলে পাওয়া গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের প্রভাব
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ একটি শীর্ষ মাল্টিন্যাশনাল শিপিং লাইনের নির্বাহিরা বলেছেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মারস্ক ও হ্যাপাগ-লয়েডের মতো কোম্পানিগুলো লোহিত সাগর দিয়ে ট্রায়াল শুরু করায় বীমা খরচ কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ফ্রেইট রেটে। আমরা আশা করছি, এই ধারা বজায় থাকলে মার্চ নাগাদ ভাড়া আরও ১৫% পর্যন্ত কমতে পারে।”
আমদানিতে গতি ফেরার সম্ভাবনা
চট্টগ্রামের একটি বড় ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠানের অপারেশনাল হেড বলেন,

“চীন থেকে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আমরা বড় ধরণের দরপতন লক্ষ্য করছি। চীন নববর্ষের আগে আগে যে চাপ ছিল, তা এখন নেই। এতে আমাদের লোকাল ক্লায়েন্টরা (আমদানিকারক) এখন নতুন করে এলসি খোলার সাহস পাচ্ছেন। খরচ কমলে শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারে পণ্যের দামও কিছুটা কমতে পারে।”

 সাপ্লাই চেইন ও পোর্ট অপারেশন
শিপিং কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের মতে, ভাড়া কমলে কনটেইনারের সরবরাহ বাড়বে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরে অভ্যন্তরীণ ধর্মঘট বা জট যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভাড়া কমলেও স্থানীয় হ্যান্ডলিং খরচের কারণে আমদানিকারকরা পূর্ণ সুবিধা পাবেন না।
ফ্রেইট রেট এক নজরে (৪০ ফুট কন্টেইনার):
রুট
বর্তমান ভাড়া (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
পূর্বের গড় ভাড়া
হ্রাসের হার
এশিয়া – ইউরোপ
$২,১০৭
$২,২১৫
৪.৭%
সাংহাই – রটারডাম
$২,১৬৪
$২,৩৮০
৯%
ভবিষ্যৎ শঙ্কা ও সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফ্রেইট রেট প্রাক-সংকট পর্যায়ে ফিরে যেতে পারে। তবে চট্টগ্রামের শিপিং নির্বাহীদের মতে, বিশ্ববাজারের এই ইতিবাচক প্রভাব ধরে রাখতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং কন্টেইনার খালাস প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর করা জরুরি।
একই সাথে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি পুনরায় উত্তপ্ত না হয়, তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।