বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকান—সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। হাতে সময় এক মাসেরও কম। এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শক্তি দেশের কয়েক কোটি তরুণ ও প্রথমবার ভোটার হওয়া জেন-জেড প্রজন্ম। যারা বিগত সরকার পতনে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল, এখন তারা প্রস্তুত ব্যালট যুদ্ধে।
রাজপথ থেকে ব্যালট বক্সে
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যারা বুক পেতে দিয়েছিল, সেই তরুণদের বড় একটি অংশ এবারই প্রথম তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত হাসান বলেন, “আমরা শুধু সরকার পরিবর্তন চাইনি, রাষ্ট্র সংস্কার চেয়েছি। আমাদের ভোটের মাধ্যমেই সেই সংস্কারের প্রতিফলন দেখতে চাই।”
শ্রমজীবী তরুণদের চাওয়া
নির্বাচনি উত্তাপ কেবল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সীমাবদ্ধ নয়। কামরাঙ্গীরচরের ছোট এক কারখানার কর্মী মো. সজীবের মতে, কেবল রাজনৈতিক স্লোগানে তাদের পেট ভরে না। তিনি বলেন, “আমরা যারা দিন আনি দিন খাই, আমাদের জন্য বড় রাজনীতি হলো ডাল-ভাতের দাম কমানো। যে দল বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারবে, ভোটটা তাদেরই দেব।”
তরুণ প্রজন্মের এই বিশাল অংশগ্রহণ কেবল সংখ্যার বিচারেই নয়, বরং গুণগত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায়। তারা আর চিরাচরিত রাজনীতির ক্রীড়নক হতে রাজি নয়।
শিক্ষিত বেকারের অগ্রাধিকার
ঢাকার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে এখন চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়। প্রথম ভোটার হওয়া মালিবাগের সুমাইয়া বলেন, “বছরের পর বছর বিসিএস বা সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে চাই না। আমরা চাই কর্মসংস্থানের সুস্থ পরিবেশ, যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, মামা-খালুর জোর নয়।”
ডিজিটাল প্রচার ও সতর্কতা
বড় দলগুলো এবার তরুণদের টানতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। তবে জেন-জেড প্রজন্ম বেশ সতর্ক। গ্রাফিক ডিজাইনার ফারহান আহমেদ মনে করেন, ফেসবুকের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে ভোট দেওয়ার দিন শেষ। এখন প্রার্থীরা আগে কী করেছেন এবং ভবিষ্যতে কী করার রূপরেখা দিচ্ছেন, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়।
পরিবর্তনের প্রতীক্ষায় জেন-জেড
অধিকাংশ তরুণের মাঝেই একটি বিষয়ে মিল পাওয়া গেছে—তারা আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফিরে আসা দেখতে চায় না। তারা এমন একটি সংসদ চায় যেখানে নিয়মিত জবাবদিহিতা থাকবে। রাজধানীর তরুণদের এই আকাঙ্ক্ষাই আগামী নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।