Home First Lead ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ভয়াবহ দরপতন

১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ভয়াবহ দরপতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত কয়েক সপ্তাহের চরম উত্তেজনার পর এই কূটনৈতিক সমঝোতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের মূল্যে।
তেলের বর্তমান বাজার দর
সপ্তাহের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও, যুদ্ধবিরতির খবরের পর তা নাটকীয়ভাবে কমেছে। শুক্রবারের বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী:
  • ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): প্রতি ব্যারেল ৯৪.৩০ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৪.০৬% কম।
  • ডব্লিউটিআই (WTI): প্রতি ব্যারেল ৯৫.৬০ ডলারে স্থিতি পেয়েছে, যা সপ্তাহান্তে প্রায় ১৫% পতনের ইঙ্গিত দেয়।
বাজার পতনের নেপথ্যে কারণ
১. হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল হওয়ার আশা: যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। চুক্তির অন্যতম শর্ত অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় সচল করার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ সংকট কাটার আশা করা হচ্ছে। ২. ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনা: পাকিস্তান, তুরস্ক ও চীনের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। জানা গেছে, স্থায়ী শান্তি আলোচনার জন্য দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা এখন ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ৩. আমদানি কারকদের স্বস্তি: যুদ্ধের কারণে সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় এনার্জি ফিউচার মার্কেটে যে অস্থিরতা ছিল, তা আপাতত কাটতে শুরু করেছে।
অনিশ্চয়তা কাটেনি পুরোপুরি
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই দরপতন স্থায়ী নাও হতে পারে। আবু ধাবির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির প্রধানের মতে, যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালী এখনো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়নি। ইরান প্রতিটি জাহাজের জন্য অতিরিক্ত টোল দাবি করছে, যা বাজারে এখনো কিছুটা অস্থিরতা জিইয়ে রেখেছে। এছাড়া ১৪ দিন পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

আরও জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com