Home চট্টগ্রাম অভিন্ন কায়দায় ২০ বছরের ব্যবধানে দুই ভাইকে হত্যা: প্রবাসীদের নিরাপত্তা কোথায়?

অভিন্ন কায়দায় ২০ বছরের ব্যবধানে দুই ভাইকে হত্যা: প্রবাসীদের নিরাপত্তা কোথায়?

টিপু চৌধুরী
 মিরসরাইয়ে কান্নার রোল
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, মিরসরাই (চট্টগ্রাম): ভাগ্য বদলাতে সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মিরসরাইয়ের টিপু চৌধুরী। দীর্ঘ ৩৫ বছর হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে সেখানে গড়ে তুলেছিলেন নিজের ব্যবসা। কিন্তু নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস, যে মাটি তার স্বপ্ন বুনেছিল, সেই মাটিতেই বুলেটবিদ্ধ হয়ে চিরবিদায় নিতে হলো তাকে।
২০ বছরের ব্যবধানে একই দেশে একইভাবে দুই ভাইকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় এক পরিবার।
ঘটনার বিবরণ
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে প্রিটোরিয়ার কোয়ামথলাংগা এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, টিপু চৌধুরী (৫০) তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের মতো কাজ করছিলেন।
এসময় হঠাৎ একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। শরীরে তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সব শেষ।
শোকাতুর মিরসরাই: অভিশপ্ত সেই ২০ বছর
নিহত টিপু চৌধুরী চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের নিজামপুর তছি সরকার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে। তার এই অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে এই শোকের পেছনে লুকিয়ে আছে আরও এক ভয়াবহ স্মৃতি। নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, এটি এই পরিবারের জন্য দ্বিতীয় বড় আঘাত। দীর্ঘ ২০ বছর আগে টিপু চৌধুরীর আরেক ভাই, আবু সায়েম চৌধুরীকেও দক্ষিণ আফ্রিকায় একইভাবে গুলি করে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা। ২০ বছর পর আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। একই দেশে দুই সন্তানের এমন করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
শেষ ইচ্ছা: প্রিয়জনের মুখ দেখা
টিপু চৌধুরী গত ৩৫ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি আজ দিশেহারা। বর্তমানে তার মরদেহ দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিপু চৌধুরীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। তারা শেষবারের মতো প্রিয় মানুষের মুখটি দেখতে চান।