Home অপরাজিতা টেমস নদীর পাড়ে একাকী সন্তান

টেমস নদীর পাড়ে একাকী সন্তান

আজহার মুনিম শাফিন

লন্ডনের এই ধূসর আকাশ আর বিরতিহীন বৃষ্টি আজ যেন মনের ভেতরকার মেঘগুলোকে আরও ঘন করে তুলেছে। হাইড পার্কের এক কোণে বেঞ্চিতে বসে আমি যখন ল্যাপটপটা খুললাম, তখন স্ক্রিনের কোণায় তারিখটা জানান দিল—আজ ১০ মে, ২০২৬। বিশ্ব মা দিবস। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দিনটি উদযাপনের জন্য আমার কাছে এখন আর কোনো ফোন নাম্বার নেই।

মা চলে গেছেন আজ দুই বছর। কিন্তু লন্ডনের এই কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে বারবার মনে পড়ছে আমাদের সেই ছোটবেলার কথা। আমার বাবা যখন আশির দশকে লন্ডনে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন, মা তখন একা হাতে সামলেছেন আমাদের সংসার। বাবার পাঠানো চিঠির অপেক্ষায় মায়ের সেই উদগ্রীব মুখটা আজও আমার চোখে ভাসে। আজ আমি নিজে এই শহরে পড়াশোনা করতে এসে বুঝি, মা তখন কতটা ধৈর্য আর ভালোবাসা দিয়ে আমাদের আগলে রেখেছিলেন।

আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনের ভিড়ে যখন একা দাঁড়িয়ে থাকি কিংবা টেমস নদীর পাড় দিয়ে হাঁটি, তখন বারবার মায়ের সেই সাদা সুতির শাড়ির আঁচলের ঘ্রাণটা খুঁজতে ইচ্ছে করে। মা যখন নামাজ পড়ে উঠতেন, উনার চারপাশটা এক পবিত্র স্নিগ্ধতায় ভরে থাকত। আজ যখন নিজের ক্লান্তিকর দিনে এক কাপ চা বানিয়ে বসি, তখন মনে পড়ে মায়ের সেই হাতের ছোঁয়া—যেখানে সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যেত।

প্রবাসের এই যান্ত্রিক জীবনে যখন জ্বর হলে কপালে জলপট্টি দেওয়ার কেউ থাকে না, তখনই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে মায়ের সেই শীতল হাতের স্পর্শ। মা বলতেন, “সব সময় মাথা উঁচু করে চলবি, অভাব যেন তোর স্বভাব নষ্ট না করে।” লন্ডনের এই চাকচিক্যময় জীবনে যখন একাকীত্ব ঘিরে ধরে, তখন মায়ের সেই কথাগুলোই আমার বেঁচে থাকার রসদ যোগায়। মা হয়তো সশরীরে নেই, কিন্তু আমার প্রতিটি পদক্ষেপে, আমার প্রতিটি সাফল্যে তিনি আছেন এক অদৃশ্য আশীর্বাদ হয়ে।

মায়ের সাথে কাটানো আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি কোনটি? আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

ভিজিট করুন www.businesstoday24.com