Home আন্তর্জাতিক ইরানের সাথে আলোচনায় বসতে পারেন ট্রাম্প

ইরানের সাথে আলোচনায় বসতে পারেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই আলোচনার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি ‘শর্তসাপেক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান নিজেই এখন আলোচনার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী বা “মরিয়া” হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনেইকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে তিনি (খামেনেই) শান্তিতে থাকতে পারবেন।” একইসঙ্গে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, অভিযানের ফলাফল ওয়াশিংটনের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তবে ট্রাম্পের এই আলোচনার সুর তাঁর আগের কঠোর অবস্থানের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করে, তবে আমেরিকা “বিশ গুণ শক্তিশালী” আক্রমণ চালাবে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিশাল খরচ নিয়ে খোদ আমেরিকার ভেতরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী:
অভিযানের প্রথম ৪৮ ঘণ্টাতেই পেন্টাগন প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এভাবে আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।
সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাঁকে একটি সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর তথ্যমতে, উপদেষ্টাদের যুক্তি হলো—মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে তাদের প্রধান লক্ষ্য অর্জন করেছে। এখন আলোচনার মাধ্যমে সরে আসতে পারলে একে একটি “সফল সামরিক অভিযান” হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ জনমত ও সমর্থকদের অবস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় ট্রাম্পকে সতর্ক করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্ত।”
 ট্রাম্পের এই মন্তব্য কি কেবলই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে কোনো বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে—তা এখন দেখার বিষয়।