বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক ড. আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ দপ্তরেই গলা কেটে হত্যা করেছেন এক কর্মচারী। অভিযুক্ত ঘাতক ফজলুর রহমান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত।
আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ২১৮নং কক্ষে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। শিক্ষককে হত্যার পর অভিযুক্ত কর্মচারী একই স্থানে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সমাজকল্যাণ বিভাগের ইফতার মাহফিল থাকায় অফিস সময়ের পরেও ড. আসমা সাদিয়া রুনা ও শিক্ষার্থীরা অনুষদ ভবনে অবস্থান করছিলেন। বিকাল ৪টার দিকে হঠাৎ ২১৮নং কক্ষ থেকে চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পান দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। তারা দ্রুত কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা ভেতরে ড. রুনাকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে প্রক্টোরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে অধ্যাপক রুনার সঙ্গে তার চরম বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে ফজলুর রহমানকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসাইন ইমাম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ড. আসমা সাদিয়া রুনার মৃত্যু হয়। তার গলা, হাত ও পায়ে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ফজলুর রহমান বর্তমানে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।
উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এই ঘটনাকে ‘অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, এই নৃশংসতার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
সমসাময়িক আপডেট থাকতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মতামত জানান।