বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবনে একটি ড্রোন পড়ে থাকার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ধানমণ্ডিস্থ বাসভবনের পশ্চিম পাশে একটি আমগাছের নিচে ড্রোনটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাগান পরিচর্যার সময় মালী সালমা হক ড্রোনটি খুঁজে পান এবং তা পার্সোনাল অফিসার দেলোয়ার হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন।
খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ডিজিটাল ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রোনটি উদ্ধার করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানান, “উদ্ধারকৃত ড্রোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এটি পাঠিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড্রোনটির গায়ে ‘মেইড ইন চায়না’ লেখা রয়েছে। এর টেকঅফ ওজন ২৪৯ গ্রাম, তবে মেমোরি কার্ড অনুপস্থিত এবং ব্যাটারি আলাদা অবস্থায় ছিল। বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ২৯ মিনিটে ড্রোনটি অবতরণ করে। তবে ড্রোনের আগমন বা উড্ডয়নের দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।
বর্তমানে ড্রোনটি সিটিটিসির ফরেনসিক ল্যাবে বিশ্লেষণের জন্য রাখা হয়েছে। বাসভবনটির চারপাশে বাড়তি পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।
ড্রোন নিরাপত্তা ঝুঁকি: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে
বিশ্বব্যাপী ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশও এ প্রবণতার বাইরে নয়।
ড্রোনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর নজরদারি, এমনকি অপরাধমূলক তৎপরতার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে দেশে বেসরকারি ড্রোন পরিচালনার জন্য সিভিল এভিয়েশন অথরিটি থেকে অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে তা অনেক সময় মানা হয় না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশন ও নিরাপত্তা সংবেদনশীল এলাকাগুলোর ওপর ড্রোন উড্ডয়ন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একই সঙ্গে, ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক এই ঘটনা বাংলাদেশে ড্রোন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকর এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা নতুন করে সামনে এনেছে। প্রশাসন ও আইন প্রণয়নকারীদের এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তুলেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।










