বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ফেনী: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতিতে বংশানুক্রমিক ধারার অবসান ঘটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার সকালে ফেনীতে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন।
পরিবারতন্ত্র ও বংশানুক্রমিক রাজনীতির সমালোচনা
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বাংলাদেশের রাজনীতির প্রচলিত সংস্কৃতি পাল্টে দিতে চাই। রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে—এই ধারা আর চলবে না। রাজার ঘরে বা মন্ত্রীর ঘরে জন্ম নিলেই কেউ নেতা হওয়ার অধিকার পাবে না।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং মেধা থাকলেই কেউ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন।
রিকশাচালকের সন্তানও হবে প্রধানমন্ত্রী
একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে একজন সাধারণ রিকশাচালক ভাই তার সন্তানের মেধা বিকাশের সুযোগ পাবেন। সেই মেধার জোরে একদিন যেন তার সন্তানও এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।”
অতীতের রাজনীতিকে ‘লাল কার্ড’
অতীতের রাজনৈতিক শাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে রাজনীতি দেশকে ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র এবং দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে, সেই ‘বস্তা পচা’ রাজনীতিকে বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। জামায়াত সেই রাজনীতিকে চিরতরে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে চায়।
গণভোট ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হেফাজত এবং ন্যায়-ইনসাফের শাসন কায়েমের লক্ষ্যে আগামী দিনের ভোট হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যখাতে বড় ঘোষণা: ৩১ জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজ
দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বড় ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ৩৩টি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ থাকলেও বাকি ৩১টি জেলা এখনো বঞ্চিত।
তিনি ঘোষণা দেন, “১৮ কোটি মানুষের ৬৪টি জেলার একটিও মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত হবে না। আল্লাহ যদি দেশসেবার সুযোগ দেন, তবে বাকি ৩১ জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। ফেনীও তার ন্যায্য পাওনা বুঝে পাবে।”
জামায়াত আমীর আরও জানান, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা সদরে বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করা হবে। আর এই বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রয়োজনীয় জনবল ও উপাদান তৈরির লক্ষ্যেই প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ থাকা জরুরি।