আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক নজিরবিহীন উত্তজনার মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—হয় দ্রুত চুক্তিতে আসতে হবে, নয়তো এক ভয়াবহ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন থেকে আসা খবরগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপ নিতে পারে।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা ও পেন্টাগনের প্রস্তুতি
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানি আলোচকদের আচরণকে “অদ্ভুত” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানিরা ভেতরে ভেতরে চুক্তির জন্য “ভিক্ষা” করলেও প্রকাশ্যে অনড় থাকার ভান করছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: “তারা দ্রুত সিরিয়াস না হলে আর ফেরার পথ থাকবে না। খুব দেরি হওয়ার আগেই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
এদিকে, পেন্টাগনের সূত্রগুলো বলছে যে তারা ইরানি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিকল্পনায় শুধু আকাশপথ নয়, বরং সম্ভাব্য স্থল সেনা অভিযানের মতো কঠোর পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধবিরতির অবসান ও রণপ্রস্তুতি
৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা: ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার যে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি ছিল, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। এটি আর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইরানের প্রতিরক্ষা: সম্ভাব্য মার্কিন আক্রমণ ঠেকাতে ইরান তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে মাইন বসানোসহ ব্যাপক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
চুক্তিতে অনড় ইরান: ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে ‘অতিরিক্ত’ ও অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তাদের দাবি, যুদ্ধ তাদের নিজস্ব সময়সূচি অনুযায়ী শেষ হবে।
ইসরায়েল ও পারমাণবিক প্রসঙ্গ
ট্রাম্প রিপাবলিকানদের উদ্দেশে দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে “ক্যান্সার কেটে ফেলার মতো” ধ্বংস করে যুদ্ধ জয় করেছে। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়াতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবকিছুর অবসান চান। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মনে করছেন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি যথেষ্ট কঠোর নয়। ফলে ইসরায়েল গাজা ও লেবাননে ইরানের মিত্রদের ওপর আক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
খাদের কিনারায় মধ্যপ্রাচ্য









