বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিগারেটের মূল্যস্তর কমানোসহ সবধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর জোরালো সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ (১২ এপ্রিল) রাজধানীর বিএমএ ভবনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত এক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে তামাক ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের ভোক্তা, যাদের অধিকাংশই দরিদ্র ও শ্রমজীবী। এই দুটি স্তরকে একত্রিত করে দাম বাড়িয়ে ১০০ টাকা (প্রতি ১০ শলাকা) নির্ধারণ করা হলে স্বল্প আয়ের মানুষ ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং তরুণ প্রজন্ম এই মরণনেশায় জড়াবে না। এছাড়া বর্তমানের জটিল অ্যাড ভ্যালুরেম পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা কর ফাঁকি রোধে ও প্রশাসনিক কাজে গতি আনবে।
বাজেট প্রস্তাবনায় সিগারেটের উচ্চ স্তরের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা বা তার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিগারেটের ওপর ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ এবং বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জর্দার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৬০ টাকা এবং গুলের দাম ৩০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে তামাক খাত থেকে আগামী অর্থবছরে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করা সম্ভব, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর ফলে প্রায় ৫ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ধূমপান ছাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্তত ৩ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হবে।
কর্মশালায় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, আত্মা’র কনভেনর লিটন হায়দারসহ তামাকবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা মনে করেন, তামাক কর ব্যবস্থার এই সংস্কার একইসাথে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অর্থসংস্থানের বড় উৎস হয়ে দাঁড়াবে।
businesstoday24.com অনুসরণ করুন









