বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রংপুর: চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে শহীদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর কবর জিয়ারত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। আশা করি তাঁর নেতৃত্বে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ফল হিসেবে একটি উন্নত ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন পূরণ হবে।”
জনসমুদ্র রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাঁও ময়দান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে রংপুর যাওয়ার পথে পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে শহীদের বাড়িতে থামেন। কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ অন্য স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় আবু সাঈদের বাবা তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন। তারেক রহমান আবু সাঈদের অসীম সাহসিকতা ও ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সেখানে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বগুড়া থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারেক রহমান। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। পীরগঞ্জে যাত্রা বিরতি শেষে তিনি রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন:
সাইফুল ইসলাম (আহ্বায়ক, রংপুর জেলা বিএনপি ও সংসদ সদস্য প্রার্থী, রংপুর-৬)।
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, যা পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বেগবান করেছিল।