ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘যৌথ উদ্যোগ’ (Joint Venture) শুরু করতে যাচ্ছে। বর্তমানে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত রাতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ১০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা বিবেচনাধীন থাকাকালীন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। যদিও চূড়ান্ত শর্তাবলি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, ইরান এই দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
এই টোল আদায়ের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ট্রাম্প। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টিকে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করে বলেন, “আমরা এটাকে একটা যৌথ উদ্যোগ হিসেবে ভাবছি। এটি জলপথটিকে নিরাপদ রাখার একটি উপায়—অন্যদের হাত থেকেও একে রক্ষা করা যাবে।”
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালী এখন ‘তেহরান টোলবুথ’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। এই টোল পরিশোধের প্রক্রিয়াটি জাহাজ মালিকদের জন্য বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে। জাহাজগুলোকে এখন থেকে তাদের কার্গো, গন্তব্য এবং মালিকানার বিস্তারিত তথ্য ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর্পস (IRGC)-এর সাথে যুক্ত মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানাতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য কমপক্ষে ১ ডলার করে টোল ধার্য করছে, যা অবশ্যই চীনা ইউয়ান অথবা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করতে হবে। একটি গড়পড়তা তেলবাহী ট্যাঙ্কারের জন্য এই টোলের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২০ লাখ ডলার। অর্থ পরিশোধ এবং যাবতীয় বিষয় অনুমোদিত হলে আইআরজিসি-র বোটগুলো জাহাজটিকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় আগামী পাঁচ বছরে ইরান প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে।