Home চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে ধানের শীষের প্রচারণায় তুঙ্গে দীপ্তি: বিরামহীন ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে

চট্টগ্রামে ধানের শীষের প্রচারণায় তুঙ্গে দীপ্তি: বিরামহীন ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে

বৃহস্পতিবার সাঈদ আল নোমান-এর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা
মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম: রাজনীতিতে পদ-পদবিই সব নয়, দলের প্রতি আনুগত্য আর আদর্শই যে মূল শক্তি—তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেলেও, বিন্দুমাত্র ক্ষোভ বা দুঃখ তাকে স্পর্শ করেনি। বরং ‘দেশনায়ক’ তারেক রহমানের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তিনি এখন চট্টগ্রামের অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে।
মনোনয়ন নয়, আদর্শই যখন বড়
নির্বাচন সামনে রেখে মোশাররফ হোসেন দীপ্তি দলের উচ্চপর্যায়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা রাখার কারণে কর্মী-সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি তা হাসিমুখে মেনে নেন। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে দলের ঐক্য এবং তারেক রহমানের নির্দেশ বাস্তবায়নই তার কাছে মুখ্য।
ভোর থেকে গভীর রাত: বিরামহীন গণসংযোগ
বর্তমানে চট্টগ্রামের নির্বাচনী মাঠের এক পরিচিত দৃশ্য—হাতে হ্যান্ডমাইক, পেছনে যুবদলের বিশাল বহর, আর সামনে সাদা মনের মানুষ মোশাররফ হোসেন দীপ্তি। কখনও তিনি সাইদ আল নোমানের জন্য ভোট চাইছেন, কখনও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কিংবা আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় ঘাম ঝরাচ্ছেন।
পাড়ায়-মহল্লায় আড্ডা: সাধারণ মানুষের ড্রয়িংরুম থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকান—সবখানেই পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি।
মহিলাদের কাছে আবেদন: অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নারী ভোটারদের কাছে গিয়ে তুলে ধরছেন ধানের শীষের প্রয়োজনীয়তা।
বিশাল কর্মী বাহিনী: তার এক ডাকেই শত শত যুবদল কর্মী রাজপথে নেমে আসছে, যা নির্বাচনী প্রচারণায় বাড়তি মাত্রা যোগ করছে।
অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড ও কারাবরণ: রাজপথের পরীক্ষিত নেতা
মোশাররফ হোসেন দীপ্তির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগের গল্পে গাঁথা। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি থাকাকালীন তিনি রাজপথ কাঁপানো আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক জীবন মানেই রাজপথ আর কারাগারের এক দীর্ঘ লড়াই। দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনি বারে বারে কারারুদ্ধ হয়েছেন।
বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে বিগত বছরগুলোতে ডজন ডজন রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। কখনও মাসের পর মাস, কখনওবা বছরের দীর্ঘ সময় তাকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটাতে হয়েছে। কিন্তু লোহার গরাদ তার মনোবল ভাঙতে পারেনি; বরং প্রতিবার জেল থেকে বেরিয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন দলের কাজে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে তার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ও বিশ্বস্ততা দীর্ঘদিনের। দলের প্রতি এই গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি আজ ব্যক্তিগত ইগো বিসর্জন দিয়ে সাধারণ কর্মীর মতো মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন।
প্রচারণা চলাকালীন এক পথসভায় দীপ্তি বলেন, “দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা ব্যক্তির জন্য নয়, ধানের শীষ আর তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে রাজনীতি করি। আমার কোনো ক্ষোভ নেই, লক্ষ্য একটাই—চট্টগ্রামের সব আসনে ধানের শীষের বিজয়।”
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে দীপ্তি এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর যেখানে অনেক নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে যান, সেখানে তার এই ক্লান্তিহীন পথচলা দলের তৃণমূল কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। সাঈদ আল নোমান হোক বা আমির খসরু—প্রার্থী যেই হোক না কেন, মোশাররফ হোসেন দীপ্তির কাছে ধানের শীষের প্রতীকই শেষ কথা।