Home Uncategorized নস্ট্রাদামুসের ২০২৬: মহাযুদ্ধের দামামা নাকি শুধুই রহস্যের কুয়াশা?

নস্ট্রাদামুসের ২০২৬: মহাযুদ্ধের দামামা নাকি শুধুই রহস্যের কুয়াশা?

ছবি এ আই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইতিহাসের ধুলোমাখা পাতায় ১৫৫৫ সালে লেখা এক বই ‘লে প্রফেশিস’। সেই বইয়ের রচয়িতা মাইকেল দে নস্ট্রাদামুস আজও বিশ্বের কাছে এক রহস্যের নাম। হিটলারের উত্থান থেকে শুরু করে আমেরিকার টুইন টাওয়ার হামলা— ইতিহাসের বহু বাঁক নাকি আগেই দেখে ফেলেছিলেন এই ফরাসি জ্যোতিষী। তবে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর ২০২৬ সালের ভবিষ্যৎবাণী।

নস্ট্রাদামুসের সংকেত অনুযায়ী, ২০২৬ সালটি হতে যাচ্ছে অস্থিরতা আর রূপান্তরের বছর। তাঁর ছত্রে ছত্রে লুকানো রয়েছে এমন কিছু ইঙ্গিত, যা আধুনিক বিশ্বের ভূ-রাজনীতিকে ভাবিয়ে তুলছে।
সাত মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম
নস্ট্রাদামুসের মতে, ২০২৬ সালে বিশ্ব এক ‘সাত মাসের মহাযুদ্ধ’ প্রত্যক্ষ করতে পারে। বর্তমানে ইউক্রেন-রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার আবহে অনেকেই একে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’-এর প্রারম্ভিক সংকেত হিসেবে দেখছেন। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই শঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
‘বাইবেলীয় মৌমাছি’ ও আধুনিক যুদ্ধ
নস্ট্রাদামুস ইঙ্গিত দিয়েছেন এক রহস্যময় ‘মৌমাছির মড়ক’ বা হামলার। প্রাচীনকালে একে পঙ্গপাল বা পতঙ্গের আক্রমণ মনে করা হলেও, বর্তমান গবেষকরা একে ভিন্ন দৃষ্টিকোণে দেখছেন। কারো মতে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘ড্রোন হামলা’, আবার কেউ বলছেন এটি কোনো ভয়ংকর ‘বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ বা জীবাণু যুদ্ধের সংকেত।
রাশিয়ার মসনদ ও প্রাকৃতিক রুদ্ররূপ
রাশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও আশঙ্কার বাণী শুনিয়েছেন তিনি। সেখানে কোনো একনায়কের পতন বা বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকটের ইঙ্গিত রয়েছে। পাশাপাশি, কৃষ্ণসাগরের উত্তাল জলরাশি নৌ-যুদ্ধের সাক্ষী হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। শুধু যুদ্ধ নয়, প্রকৃতিও যেন প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত।
নস্ট্রাদামুসের ভাষ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম রূপ ২০২৬ সালে বিশ্ববাসীকে নাকাল করে ছাড়বে।
বাস্তব নাকি শুধুই জল্পনা?
নস্ট্রাদামুসের এসব বাণীর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাঁর রূপকধর্মী পদ্যের একেকজন একেক রকম ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। সমালোচকদের মতে, ঘটনার পর সেই ঘটনার সাথে নস্ট্রাদামুসের কথা মিলিয়ে নেওয়াটা এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা মাত্র।
তবুও, অজানাকে জানার মানুষের যে চিরাচরিত কৌতূহল, তা নস্ট্রাদামুসকে শত শত বছর ধরে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।
সত্যিই কি পৃথিবী এক মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, নাকি এগুলো কেবলই সময়ের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া কিছু অস্পষ্ট শব্দ— তার উত্তর দেবে কেবল ২০২৬।