Home Second Lead ৩ বছরে নারিকেলের মিথ ও চারা বাণিজ্যের আড়ালে প্রতারণা

৩ বছরে নারিকেলের মিথ ও চারা বাণিজ্যের আড়ালে প্রতারণা

কৃষি বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

সিরিজ প্রতিবেদন
পকেটে সিঁধ: ভোক্তার প্রতিদিনের লড়াই
কামরুল হাসান
“৩ বছরেই ফলন, মাটির সাথে ঝুলে থাকবে নারিকেল”—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন চটকদার বিজ্ঞাপন আর এডিট করা ছবিতে সয়লাব এখন নার্সারি ব্যবসা। খাটো জাতের নারিকেলের এই রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করছেন শৌখিন বাগানীরা। কিন্তু বাস্তবে তিন বছর পার হলেও অনেকের কপালে ফলনের বদলে জুটছে কেবল হতাশা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চারা বাণিজ্যের আড়ালে চলছে এক বিশাল সিন্ডিকেট। যারা সাধারণ দেশি চারাকে ‘ভিয়েতনামি’ বা ‘কেরালা’ জাত বলে চড়া দামে বিক্রি করছে।
ফেসবুকে যে ছবিগুলো দেখানো হয়, তার অধিকাংশই বিদেশি কোনো বাগানের বা কৃত্রিমভাবে সাজানো। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিয়েতনামি ‘ডোয়ার্ফ’ বা খাটো জাতের নারিকেল ৩-৪ বছরে ফল দেয় ঠিকই, কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন অলৌকিক নয়, বরং কঠোর বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভুক্তভোগীরা জানান, চারা কেনার সময় বলা হয়েছিল কোনো বাড়তি যত্নের প্রয়োজন নেই। অথচ রোপণের দুই বছর পর দেখা যাচ্ছে গাছ বড় হচ্ছে না, কিংবা পাতায় মাকড়সা ও সাদা মাছির আক্রমণে গাছ মরণাপন্ন।
প্রতারণার কৌশল
অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণত তিনটি উপায়ে প্রতারণা করছে:
  • ১. জাত বিভ্রাট: সাধারণ দেশি নারিকেল গাছকে ছোট অবস্থায় বিশেষ হরমোন দিয়ে বৃদ্ধি কমিয়ে ‘খাটো জাত’ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
  • ২. ছবি ও ভিডিও জালিয়াতি: অন্য দেশের বামন প্রজাতির নারিকেল বাগানের ভিডিও নিজের বলে প্রচার করা।
  • ৩. অনলাইন ডেলিভারি: কুরিয়ারে চারা পাঠানোর নাম করে নিম্নমানের বা রোগাক্রান্ত চারা ধরিয়ে দেওয়া।
কৃষিবিদদের মতে, এই হাইব্রিড গাছগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। এদের প্রধান শত্রু হলো ‘মাইট’ বা ফল ছিদ্রকারী পোকা। নিয়মিত সুষম সার, পর্যাপ্ত সেচ এবং কীটনাশক প্রয়োগ না করলে এই গাছে ফলন আসা প্রায় অসম্ভব। সাধারণ দেশি গাছের মতো ‘লাগিয়ে রাখলাম আর ফল খেলাম’—এই ধারণা হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভুল।
১. রাস্তার ধারের অস্থায়ী দোকান বা ফেসবুকের অচেনা পেজ থেকে চারা কিনবেন না। ২. সরকারি হর্টিকালচার সেন্টার বা নিবন্ধিত বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করুন। ৩. চারা কেনার সময় জাতের সঠিক নাম (যেমন: সিয়াম গ্রিন বা সিয়াম ব্লু) এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
পকেটে সিঁধ কাটা এই চারা সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতাই এখন একমাত্র পথ। আপনার কষ্টের টাকা যেন অন্যের প্রতারণার পুঁজি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।