Home Second Lead অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে গড়ে প্রতি বছর ২৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে গড়ে প্রতি বছর ২৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়

লেবেলিং চালুর জরুরি তাগিদ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা এবং অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফলে উচ্চরক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গ্লোবাল বারডেন অফ ডিজিজ ২০২১-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর অতিরিক্ত সোডিয়াম (লবণ), ট্রান্সফ্যাট এবং চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের কারণে প্রায় ২৭ হাজার ৩৮৭ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
আজ রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত “অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় নিরাপদ খাদ্য এবং আমাদের করণীয়” শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি”।
মৃত্যুঝুঁকি ও বাজেট সংকট: ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংক্রামক রোগে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ২৬৩ জন মানুষ মারা যায়। এই বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকি সত্ত্বেও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বাজেট বরাদ্দ খুবই সামান্য। বর্তমানে মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ এই খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতির তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন প্যাকেটের সামনে সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (FOPL) ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, এর ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারবেন প্যাকেটের ভেতরে থাকা খাবারে লবণ বা চিনির পরিমাণ ক্ষতিকর পর্যায়ে আছে কি না।
সরকারের পদক্ষেপ: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সরকার কাজ করছে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে সহজবোধ্য লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান এবং আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সচেতনতার পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা একমত হন যে, অসংক্রামক রোগের মহামারি ঠেকাতে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা এবং শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।