Home আন্তর্জাতিক হাতির তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে কুমিরের পেটে জেলে

হাতির তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে কুমিরের পেটে জেলে

মৃত্যু যেখানে দুই বাঁকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম লড়াইয়ে প্রাণ হারালেন জাম্বিয়ার এক হতভাগ্য জেলে। ডাঙ্গায় যমদূত হয়ে তাড়া করল হাতির পাল, আর সেই মরণকামড় থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ দিতেই অপেক্ষমাণ কুমিরের শিকারে পরিণত হলেন তিনি।  চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ লুয়াংওয়ার এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাতের এক চরম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৃত্যুর মুখে মরণঝাঁপ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন ভোরে লুয়াংওয়া নদীর তীরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন স্থানীয় এক প্রবীণ জেলে। হঠাৎ জঙ্গল থেকে একদল বন্য হাতি তাকে লক্ষ্য করে তেড়ে আসে। উন্মত্ত হাতিদের পা থেকে বাঁচতে জীবন বাঁচাতে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু তিনি জানতেন না, নদীর শীতল জলে তার জন্য অপেক্ষা করছিল আরও বড় বিপদ।
সেকেন্ডের ব্যবধানে শিকার
নদীতে পা রাখা মাত্রই একটি বিশাল ‘নীল নদের কুমির’ (Nile Crocodile) তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য জেলেরা জানান, হাতিদের ভয়ে তারা কাছে গিয়ে সাহায্য করতে পারেননি। চোখের পলকেই কুমিরটি তাকে পানির গভীরে টেনে নিয়ে যায়। কয়েক মুহূর্তের আর্তনাদ আর পানির বুদবুদ ছাড়া সেখানে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।
সংঘাতের নেপথ্যে
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত বিরল এবং মর্মান্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে:
আবাসস্থলের সংকট: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হাতিরা খাবারের সন্ধানে নদীর পাড়ে চলে আসছে।
বিপজ্জনক সহাবস্থান: মানুষ, হাতি এবং কুমির—তিন পক্ষই এখন টিকে থাকার জন্য একই জলাশয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
শোকের ছায়া ও সতর্কতা
জাম্বিয়ার জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণী বিভাগ (DNPW) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঐ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের একা চলাফেরা না করতে এবং বন্য প্রাণীর গতিবিধি লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ কেবল একজন মানুষের প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হলে মানুষের জীবন কতটা সস্তা হয়ে পড়ে।