Home অন্যান্য নীলকণ্ঠের রহস্য: বাগানের নিষিদ্ধ সীমানা

নীলকণ্ঠের রহস্য: বাগানের নিষিদ্ধ সীমানা

 দ্বিতীয় পর্ব  

ডিএন রাকেশ

রাতের খাবার শেষ করে অনির্বাণ যখন বাংলোর বারান্দায় এসে দাঁড়াল, তখন চারপাশ নিঝুম। জোনাকির আলো আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। দূরে পাহাড়ের মাথায় চাঁদ উঠেছে, আর সেই ম্লান আলোয় চা বাগানটাকে দেখাচ্ছে রূপালি চাদরে ঢাকা কোনো এক মায়াবী জগতের মতো।
অনির্বাণ লক্ষ্য করল, বাংলোর কাজের লোকগুলো সন্ধ্যার পরপরই নিজেদের ডেরায় ফিরে গেছে। এমনকি রতন কাকুও আজ বেশ তাড়াতাড়ি নিজের ঘরে গিয়ে খিল দিয়েছেন। যাওয়ার আগে খুব নিচু স্বরে বলে গেছেন, “দাদাবাবু, যা-ই হোক না কেন, মাঝরাতে বারান্দায় বেশিক্ষণ থাকবেন না। এ বাগানের বাতাস রাতে ভারী হয়ে ওঠে।”
অনির্বাণের ঘুম আসছিল না। তার মাথায় ঘুরছে নিখোঁজ ম্যানেজার রাজীব বাবুর কথা। সে তার শক্তিশালী টর্চটা নিয়ে সাবধানে বাংলোর পেছনের গেট দিয়ে বাগানে নামল। ভিজে ঘাস আর মাটির গন্ধ নাকে আসছে। সারি সারি চা গাছের মাঝখান দিয়ে সরু পথ ধরে সে এগোতে লাগল।
হঠাৎ তার নজরে এল বাগানের উত্তর প্রান্তের সেই ঘন জঙ্গলটা। রতন কাকু যেটাকে ‘নিষিদ্ধ সীমানা’ বলেছিলেন। কৌতূহল সামলাতে না পেরে অনির্বাণ সেদিকেই পা বাড়াল। কিছুদূর যেতেই চা গাছ শেষ হয়ে এল, শুরু হলো আদিম অরণ্য।
হাঁটতে হাঁটতে সে এক জায়গায় থমকে দাঁড়াল। সামনেই পাথরের তৈরি এক প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ। ছোট একটা মন্দিরের মতো দেখতে, কিন্তু তার গায়ে খোদাই করা নকশাগুলো বেশ অদ্ভুত—ত্রিপুরার সাধারণ মন্দিরের মতো নয়। মন্দিরের সামনে ছড়ানো ছিটানো কিছু পোড়া কাঠ আর শুকনো বেলপাতা। মনে হয় কেউ এখানে নিয়মিত আসে।
অনির্বাণ টর্চের আলো ফেলতেই দেখল, মন্দিরের চাতালে একটা ডায়েরি পড়ে আছে। ধুলোমাখা, উইপোকায় কাটা পুরনো ডায়েরি। সে যখন ওটা তুলতে যাবে, তখনই জঙ্গলের আড়াল থেকে একটা ভাঙা ডাল মড়মড় করে উঠল। কেউ যেন দ্রুতপদে সেখান থেকে সরে গেল।
“কে? কে ওখানে?” অনির্বাণ চিৎকার করল। কিন্তু কোনো উত্তর এল না। শুধু বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আর দূরে কোনো এক নাম না জানা পাখির ডাক শোনা গেল।
অনির্বাণ দ্রুত ডায়েরিটা তুলে নিয়ে বাংলোর দিকে ফিরতে শুরু করল। তার বুক ঢিপঢিপ করছে। তার মনে হলো, একজোড়া অদৃশ্য চোখ অন্ধকার থেকে তাকে অনুসরণ করছে। বাংলোর গেটে পৌঁছানোর ঠিক আগে সে একবার পেছনে তাকাল। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সে দেখতে পেল—জঙ্গলের সীমানায় একটা লম্বা ছায়া মূর্তি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে অনির্বাণ হাফ ছাড়ল। ডায়েরিটা টেবিলে রাখতেই তার নজর পড়ল প্রচ্ছদের ওপর। সেখানে অস্পষ্ট হরফে লেখা— ‘রাজীব মল্লিক, ম্যানেজার, নীলকণ্ঠ এস্টেট’।
রহস্যের জাল আরও ঘনীভূত হতে শুরু করল। রাজীব বাবু কি নিজের ইচ্ছায় হারিয়ে গেছেন, নাকি এই নিষিদ্ধ সীমানার কোনো গোপন সত্য তাকে গিলে ফেলেছে?
To know more visit: www.businesstoday24.com