Home কক্সবাজার গর্জনিয়ায় গোলাগুলি: শফিউল খুনের নেপথ্যে চোরাচালান না কি অভ্যন্তরীণ কোন্দল?

গর্জনিয়ায় গোলাগুলি: শফিউল খুনের নেপথ্যে চোরাচালান না কি অভ্যন্তরীণ কোন্দল?

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:  রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা বেলতলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে শফিউল আলম (৩৮) ওরফে ‘লেদা পুতু’ নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই দুর্গম জনপদে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ঘরে ডেকে নিয়ে নৃশংসতা
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভোর রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি শফিউলকে তার ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। পরিচিত কেউ ভেবেই হয়তো তিনি ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই পর পর গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এলাকা। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে ছুটে গিয়ে শফিউলকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
অপরাধ জগতের সংশ্লিষ্টতা ও পুলিশের বক্তব্য
নিহত শফিউল আলমকে নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি মিয়ানমার সীমান্ত ব্যবহার করে চোরাচালান ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও তার আগেই খুনিরা পাহাড় ও বনের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ওসি আরও জানান:

“নিহত শফিউলের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আমাদের ধারণা, সীমান্ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে অথবা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। খুনিদের শনাক্ত করতে আমরা কাজ করছি।”

সীমান্তবর্তী এই এলাকায় অপরাধী চক্রের এমন নৃশংসতায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।