বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম মাদক পাচার চক্রের মূল হোতা অবশেষে পুলিশের জালে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার কোকেন পাচারে অভিযুক্ত পবন ঠাকুরকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডিটিভি ও পুলিশ সূত্রে খবর, আইনি প্রক্রিয়া শেষে খুব শীঘ্রই তাঁকে ভারতে ডিপোর্ট করা বা ফিরিয়ে আনা হবে। পবনের গ্রেপ্তারি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২,৫০০ কোটি টাকার কোকেন বাজেয়াপ্ত
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে। দিল্লিতে এক বিশাল অভিযানে প্রায় ৮২ কিলোগ্রাম উচ্চমানের কোকেন বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য আনুমানিক ২,৫০০ কোটি টাকা। তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন পবন ঠাকুর। তদন্তে উঠে এসেছে, মাদক প্রথমে একটি ভারতীয় বন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ট্রাকে করে দিল্লিতে এনে একটি গুদামে মজুত করা হয় এবং পরে বিভিন্ন হ্যান্ডলারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। দুবাইয়ে বসেই এই পুরো ‘সাপ্লাই চেইন’ বা সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতেন পবন।
ইন্টারপোলের ‘সিলভার নোটিশ’ ও বিলাসবহুল জীবন
গত বছর দিল্লিতে বিশাল অংকের মাদক বাজেয়াপ্ত এবং তাঁর পাঁচ সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই পরিবার নিয়ে দুবাই পালিয়ে যান পবন ঠাকুর। সেখানে তিনি দুবাই হিলস এস্টেটে অভিজাত ভিলা এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি কিনে রাজকীয় জীবনযাপন করছিলেন। এই বছরের সেপ্টেম্বরে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (NCB) অনুরোধে ইন্টারপোল পবন ঠাকুরের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো ‘সিলভার নোটিশ’ জারি করে, যা এই গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
হাওয়ালা এজেন্ট থেকে মাদক মাফিয়া
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পবন ঠাকুর একসময় দিল্লির কুচা মহাজানি বাজারে সাধারণ ‘হাওয়ালা’ এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তিনি অন্ধকার জগতে প্রবেশ করেন এবং মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার কালো টাকা হাওয়ালা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো। ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং সৌদি আরবে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং শেল কোম্পানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং করতেন।
চলমান তদন্ত ও নতুন সূত্র
শুধু গত বছরের কেস নয়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দিল্লিতে যে ২৮২ কোটি টাকার মাদক বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তার নেপথ্যেও পবনের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, পবন ঠাকুরকে ভারতে এনে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে এই আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের আরও গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং চক্রের অন্য হোতাদেরও চিহ্নিত করা যাবে।










