বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আজ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ডের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রের সাক্ষী হলো বন্দরনগরী। বিএনপির নির্বাচনী মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পলোগ্রাউন্ড মাঠটি আজ কেবল একটি ময়দান থাকেনি, তা পরিণত হয়েছিল এক উত্তাল রাজনৈতিক মহাসমুদ্রে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সমাবেশ শুরু হওয়ার অনেক আগেই মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের ঢল আছড়ে পড়ে টাইগার পাস থেকে সিআরবি এলাকা পর্যন্ত। ওপর থেকে তাকালে মনে হচ্ছিল, ধূসর কংক্রিটের বুকে কেউ যেন এক বিশাল লাল-সবুজ আর সাদা রঙের জীবন্ত মানচিত্র এঁকে দিয়েছে। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর যখন জনস্রোত ফিরতে শুরু করেছে, তখনো মাঠের প্রতিটি ইঞ্চিতে লেগে আছে লাখো মানুষের পায়ের ছাপ।
মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালে কেবল দিগন্ত বিস্তৃত মানুষের মাথার সারি চোখে পড়ে। উত্তপ্ত রোদেও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি; বরং হাতে ধরা ধানের শীষের গুচ্ছগুলো যখন একসাথে বাতাসে দুলছিল, তখন মনে হচ্ছিল যেন সোনালী শস্যের এক বিশাল ক্ষেত ঢেউ খেলছে জনসমুদ্রের বুকে।
জনকণ্ঠের প্রতিধ্বনি: এই জনসমুদ্রের ঢেউয়ে শামিল হওয়া সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ঝরছিল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। পটিয়া থেকে আসা বৃদ্ধ রহমত আলী (৭৫) লাঠিতে ভর দিয়ে মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাপু, অনেক কষ্ট করে আসছি। এই যে মানুষের মেলা দেখছেন, এটা শুধু মিছিল না, এটা আমাদের বাঁচার লড়াই।”
মঞ্চের অদূরে থাকা তরুণ ভোটার ফাহিম উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, “আমরা তরুণরা এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। আজকের এই জনসমুদ্রই বলে দিচ্ছে মানুষ কী চায়। পলোগ্রাউন্ডের এই মাঠ ছোট হয়ে গেছে মানুষের ভালোবাসার কাছে।”
গৃহিণী সালেহা বেগম এসেছিলেন তার ছেলেকে নিয়ে। তিনি বলেন, “জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা শান্তি আর স্বস্তি চাই, তাই আজ এখানে আসা।”
স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত পলোগ্রাউন্ডের এই দৃশ্য যেন চট্টগ্রামবাসীর রাজনৈতিক আবেগের এক জীবন্ত প্রতিফলন। সমাবেশ শেষ হলেও মানুষের এই স্রোত আর ধানের শীষের জয়ধ্বনি যেন নগরীর অলিগলিতে এক দীর্ঘ প্রতিধ্বনি রেখে যাচ্ছে।