কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: বসন্তের তপ্ত রোদের মতোই উত্তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আজকের দিনটি অর্থাৎ ২ এপ্রিল নির্বাচনের ক্যালেন্ডারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। প্রথম দফার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ শেষের পথে, আর দ্বিতীয় দফার ডামাডোল শুরু হলো আজ থেকেই।
তৃণমূল কংগ্রেস এবারও ‘উন্নয়ন’ এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে ঢাল করে ময়দানে নেমেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় জনসভা শুরু করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গ্যারান্টি এবং রাজ্যের কর্মসংস্থান ও দুর্নীতির ইস্যুকে সামনে রেখে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গেরুয়া শিবির রাজ্যের প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
মনোনয়ন ও প্রার্থী তালিকায় চমক
এবার প্রতিটি দলেই প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যাপক রদবদল দেখা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তালিকায় নবীনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দলের অন্দরে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব কিছুটা মাথাচাড়া দিয়েছে। বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকায় প্রাক্তন আমলা এবং খেলোয়াড়দের জায়গা দিয়ে চমক দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছে কংগ্রেস। দীর্ঘ তিন দশক পর তারা রাজ্যে একলা চলার নীতি গ্রহণ করেছে এবং ইতিমধ্যেই ২৮৪টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। অধীর রঞ্জন চৌধুরী বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন।
বিক্ষোভ ও অসন্তোষের ছায়া
মনোনয়ন নিয়ে সব দলেই কমবেশি অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে। অনেক পুরনো বিধায়ক টিকিট না পাওয়ায় নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। বিশেষ করে মালদা এবং মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস ও তৃণমূল—উভয় দলেই প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বামফ্রন্ট ও আইএসএফ-এর আসন সমঝোতা নিয়ে জলঘোলা হওয়ায় দুই শিবিরের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এক নজরে ভোটের নির্ঘণ্ট
প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল): উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের জেলাগুলোতে ভোট।
দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল): দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ভোট।
ফল প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬।
আগামী কয়েকদিন মনোনয়ন পেশ এবং প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলবে। শেষ পর্যন্ত কে কার থেকে কটি আসন ছিনিয়ে নিতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।