Home First Lead পারকি থেকে গহিরা: পর্যটন খাতের ঘুমিয়ে থাকা এক ‘বিশালপুর’

পারকি থেকে গহিরা: পর্যটন খাতের ঘুমিয়ে থাকা এক ‘বিশালপুর’

ছবি: এ আই
কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:  আনোয়ারা উপকূলের নাম শুনলেই পর্যটকদের চোখে ভাসে পারকি সৈকতের ঝাউবাগান। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, এই পর্যটন সম্ভাবনা কেবল পারকি গ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দক্ষিণে একেবারে গহিরা উপকূল পর্যন্ত এক সুবিস্তীর্ণ এবং অবিচ্ছিন্ন সৈকত রেখা। স্থানীয়দের মতে, উপযুক্ত পরিকল্পনা আর সরকারি তিন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে এই দীর্ঘ সৈকত হতে পারে কক্সবাজারের পর দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য।
অবিচ্ছিন্ন সৈকত: পারকি থেকে গহিরা
ভৌগোলিক দিক থেকে পারকি হতে গহিরা পর্যন্ত প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই সমুদ্র সৈকত এলাকাটি প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত মনোরম। গহিরা উপকূলে সমুদ্রের বিশালতা এবং লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ পর্যটকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারে। পারকি অংশে পর্যটন কিছুটা বিকশিত হলেও গহিরা প্রান্তটি এখনও লোকচক্ষুর আড়ালে রয়ে গেছে। অবশ্য তা পুরোপুরি ঠিক নয় বলে জানালেন স্থানীয়রা।
তারা জানান,  আনোয়ারা অঞ্চলে পর্যটকদের যাতায়ত সূচনা হয়েছিল গহিরাতে। কিন্তু সে সময়ে কিছু সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজর উৎপাতে বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পারকিকে কেন্দ্র করে সৈকতভিত্তিক পর্যটন সুবিধা তৈরি হয়।
তিন সংস্থার ‘যৌথ উদ্যোগ’ কেন প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের মতে, এই সুবিস্তীর্ণ সৈকতকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন জোনে রূপান্তর করতে তিনটি নির্দিষ্ট সরকারি দপ্তরের সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য:
  • পর্যটন কর্পোরেশন: গহিরা পর্যন্ত পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করতে আধুনিক মোটেল, পার্কিং, ওয়াচ টাওয়ার এবং চেঞ্জিং রুমের মতো অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। এর ফলে পর্যটকরা কেবল পারকিতে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো সৈকত জুড়ে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
  • বন বিভাগ: সৈকতের ভাঙন রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পারকি থেকে গহিরা পর্যন্ত পরিকল্পিত ঝাউবন ও কেওড়া বন সৃজন করা প্রয়োজন। এটি সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলকে রক্ষা করবে।
  • পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো): গহিরা সংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রের জোয়ার ও ঢেউয়ের ঝাপটা থেকে সৈকত রক্ষা এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ‘ওয়াকওয়ে’ তৈরির দায়িত্ব পাউবোর। একটি টেকসই বাঁধ বা প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরি করা গেলে সৈকতটি দীর্ঘস্থায়ী হবে।
স্থানীয়দের অভিমত

গহিরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, টানেল চালু হওয়ার পর মানুষের যাতায়াত বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু সুযোগ-সুবিধার অভাবে পর্যটকরা গহিরা পর্যন্ত আসতে চান না। স্থানীয় এক তরুণ বলেন, “পারকি থেকে গহিরা পর্যন্ত একটি মেরিন ড্রাইভ বা সুন্দর সংযোগ সড়ক থাকলে মানুষ সরাসরি গহিরাতে গিয়ে সমুদ্র দেখতে পারতো। এতে আমাদের এলাকার অর্থনীতিও চাঙ্গা হতো।”

বিশেষজ্ঞ অভিমত
নগর ও পরিবেশ পরিকল্পনাবিদদের মতে, “বিচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে পর্যটন কর্পোরেশন, বন বিভাগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি একটি ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করে কাজ শুরু করে, তবেই আনোয়ারা উপকূল রক্ষা পাবে এবং এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই বিশাল সম্পদের সঠিক ব্যবহার সম্ভব নয়।”
পারকি থেকে গহিরা পর্যন্ত এই নীল দিগন্তকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান বহুগুণ বেড়ে যাবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই এখন এই সোনালী উপকূলের মূল দাবি।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: businesstoday24.com