Home আন্তর্জাতিক ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান অচল করার হুমকি: উত্তাল রাওয়ালপিণ্ডি

৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান অচল করার হুমকি: উত্তাল রাওয়ালপিণ্ডি

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কারাবন্দি পিটিআই (PTI) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে মঙ্গলবার রাতে রাওয়ালপিণ্ডির আডিয়ালা জেলের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ভেঙে ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা শুরু করেছেন তার বোনেরা। দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
ধর্মঘট থেকে রাজপথ: হঠাৎ কেন এই পরিবর্তন?
প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের দিন নির্ধারিত থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সারাদিন আডিয়ালা জেলের অদূরে অবস্থান ধর্মঘট করার পর রাতে হঠাৎ করেই ইমরান খানের তিন বোন— আলিমা খান, উজমা খান ও নওরীন খান নিয়াজি— রাজপথে নেমে আসেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও অসংখ্য পিটিআই কর্মী।
পিটিআই-এর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) জানানো হয়, “আজ চেয়ারম্যান ইমরান খান ও বুশরা বিবির সঙ্গে পরিবারের কোনো সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। তাই প্রতিবাদ জানাতে কর্মীরা ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন।”
“দুই-তিন হাজার লোক দেখেই ভয় পাচ্ছে তারা”
পদযাত্রা চলাকালীন আলিমা খান গণমাধ্যমকে বলেন, “কর্তৃপক্ষ দুই-তিন হাজার মানুষ দেখেই ভয় পাচ্ছে। যদি ১০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ইসলামাবাদের দিকে হাঁটা শুরু করে, তবে কী হবে?” তিনি অভিযোগ করেন, জেল সুপারিন্টেনডেন্ট এমনকি ওকালতনামায় সই করার সুযোগও দিচ্ছেন না।
অন্যদিকে, উজমা খান এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে বলেন, “খাইবার পাখতুনখোয়ার সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করার কারণেই ইমরান খানকে আটকে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আডিয়ালা জেলের সামনে থেকে পিটিআই সমর্থকদের আটক করতে পুলিশ ঘুষ দাবি করছে।
৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ‘জ্যাম’ করার হুঁশিয়ারি
বিক্ষোভ মিছিল থেকে পিটিআই নেতারা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ‘হুইল-জ্যাম’ বা সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। উজমা খান দেশবাসীকে ওই দিন ইমরান খানের ছবি সম্বলিত ঘুড়ি উড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
আইনি লড়াই বনাম বাস্তবতা
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সপ্তাহে দুদিন ইমরান খানের সাথে সাক্ষাতের নির্দেশ দিলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা শফিউল্লাহ জান জানান, আগে পুলিশ জেল থেকে ৩ কিমি দূরে ব্যারিকেড দিলেও এখন ৮ কিমি দূরেই তাদের থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে গত ডিসেম্বর থেকে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধিরা ইমরান খানের বন্দিদশাকে ‘অমানবিক’ বলে সতর্ক করেছেন। দুর্নীতির মামলা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের বেড়াজালে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বন্দি এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরেই এখন উত্তপ্ত পাকিস্তানের রাজনীতি।