বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকার পর পিপলস লিজিং সচল করার যে তোড়জোড় চলছে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের মধ্যে গভীর সংশয় রয়ে গেছে। যদিও পর্ষদ দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, কিন্তু বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা।
আশঙ্কাজনক আর্থিক চিত্র
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই সূ্ত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট বুঝা যায় যে প্রতিষ্ঠানটি এখনো গভীর লোকসানে নিমজ্জিত। শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAVPS) মাইনাস (-) ১৫২.৬৯ টাকা হওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠানটির দায়ের পরিমাণ সম্পদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। নামমাত্র ঋণ বিতরণ (২৫ কোটি টাকা) দিয়ে হাজার কোটি টাকার দেনা মেটানো এবং বিশাল এই ঘাটতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
আমানতকারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও সামান্য প্রাপ্তি
তৃতীয় কিস্তির টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা এলেও, সাধারণ আমানতকারীদের মূল টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। কয়েক বছর ধরে হাজার হাজার গ্রাহকের কয়েক হাজার কোটি টাকা আটকে থাকলেও ফেরত দেওয়ার হার অত্যন্ত নগণ্য। বারবার সময় বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র পরিসরে টাকা ফেরতের প্রক্রিয়াটি মূলত সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রণোদনার ওপর পরনির্ভরশীলতা
প্রতিষ্ঠানটি সচল করার জন্য সরকারের কাছে ৭৫০ কোটি টাকার বিশাল অংকের প্রণোদনা চেয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবসায়িক মডেলে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে জনসাধারণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে এই মৃতপ্রায় প্রতিষ্ঠানকে কতটুকু টেনে তোলা সম্ভব? পর্যাপ্ত গ্যারান্টি ছাড়া এই ধরনের প্রণোদনা শেষ পর্যন্ত কোনো সুফল বয়ে আনবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা
শেয়ার বাজারে দীর্ঘদিন লেনদেন বন্ধ থাকার পর পিপলস লিজিংকে নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই সূত্র জানায়, তাদের পক্ষ থেকে বার বার ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিয়ে পরিষ্কার কোনো রূপরেখা পাওয়া যায়নি।
আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা বর্তমান পর্ষদের জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।
businesstoday24.com এভাবে ফলো করা ও মন্তব্য করার অনুরোধ থাকবে।