পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস বর্তমানে তরুণীদের মধ্যে দ্রুত বাড়তে থাকা একটি গুরুতর হরমোনজনিত রোগ। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে এ রোগের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ না করা হলে এটি বন্ধ্যাত্বসহ নানা জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, পিসিওএস মূলত নারীদের ডিম্বাশয়ের কার্যক্রমে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে। এতে ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয় এবং স্বাভাবিক ডিম্বাণু নিঃসরণ ব্যাহত হয়। ফলে মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে অথবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুখে ও শরীরে লোম গজানো, ব্রণ বৃদ্ধি এবং চুল পড়ার সমস্যাও দেখা যায়।
এই রোগে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ওজন বৃদ্ধি একটি সাধারণ সমস্যা। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে, যা পরবর্তীতে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের আশঙ্কাও বাড়ে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন।
বাংলাদেশে পিসিওএস বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। অনেক তরুণী মাসিকের অনিয়ম বা ওজন বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা করেন। ফলে রোগটি দীর্ঘদিন অজানা থেকে যায় এবং বিয়ের পর সন্তান ধারণে সমস্যার মুখে পড়ে বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিসিওএস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করলে রোগের জটিলতা অনেকটাই কমে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরী বয়স থেকেই মেয়েদের মাসিক চক্র ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের বিষয়ে সচেতন করা জরুরি। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে স্বাস্থ্যশিক্ষা জোরদার করা গেলে পিসিওএসসহ নানা নারীরোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
পিসিওএস শুধু একটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি নারীদের সামগ্রিক জীবনমান ও ভবিষ্যৎ প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া ও সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণই পারে এই নীরব সমস্যার ভয়াবহতা কমাতে।