সাধারণত ব্যথানাশক হিসেবে বহুল ব্যবহৃত প্যারাসিটামল এবং আইবুপ্রোফেন নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক ও ডনক্যাস্টার লোকাল মেডিকেল কমিটির সিইও ডক্টর ডিন এজিট। তার মতে, এই ওষুধগুলোর ভুল ডোজ বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার লিভার ফেইলিওর, কিডনি অকার্যকর এবং পাকস্থলীর আলসারের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনটির মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আইবুপ্রোফেন ও পাকস্থলীর ঝুঁকি
আইবুপ্রোফেন একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID)। এটি প্রদাহ কমাতে কাজ করলেও শরীরের ভেতরে এটি পাকস্থলীর আস্তরণে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
ঝুঁকি: নিয়মিত আইবুপ্রোফেন সেবনে পাকস্থলীতে আলসার হতে পারে।
পেরিটোনিটিস: আলসার ফেটে গেলে পাকস্থলীর আবরণে সংক্রমণ বা পেরিটোনিটিস দেখা দেয়, যা লিভার, কিডনি এবং অন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
২. প্যারাসিটামল ও লিভার ফেইলিওর
অনেকেই প্যারাসিটামলকে খুব নিরাপদ মনে করে মুড়িমুড়কির মতো খান, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
NAPQI টক্সিন: প্যারাসিটামল যখন শরীরে ভেঙে যায়, তখন NAPQI নামক একটি বিষাক্ত উপজাত তৈরি হয়। অল্প ডোজে শরীর এটি সামলে নিতে পারলেও অতিরিক্ত ডোজে লিভার এটি নিষ্ক্রিয় করতে পারে না।
লিভার ফেইলিওর: দিনে মাত্র ১০টি করে প্যারাসিটামল এক সপ্তাহ খেলে তা লিভারের স্থায়ী ক্ষতি বা লিভার ফেইলিওর ঘটাতে পারে। জন্ডিস হওয়া লিভার ড্যামেজের একটি অন্যতম লক্ষণ।
৩. রোগের লক্ষণ আড়াল করা
ডক্টর এজিট সতর্ক করেছেন যে, ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার ফলে শরীরের মূল সমস্যাটি আড়ালে চলে যায়। এর ফলে কোনো গুরুতর রোগের (যেমন ক্যান্সার) প্রাথমিক নির্ণয় বিলম্বিত হয়।
৪. লোপেরামাইড এবং অন্ত্রের ক্যান্সার
ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ লোপেরামাইড নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যারা দীর্ঘসময় ধরে মলত্যাগের সমস্যা বা ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য এই ওষুধটির ওপর নির্ভর করেন, তারা আসলে বউয়েল ক্যান্সার বা অন্ত্রের ক্যান্সারের লক্ষণগুলো ঢেকে রাখছেন।
দেরিতে রোগ ধরা পড়লে বাঁচার সম্ভাবনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই ক্যান্সারের হার বাড়ছে।
ওষুধগুলো সঠিক নিয়মে এবং কদাচিৎ সেবন করলে নিরাপদ, তবে সামান্য ভুল ডোজ বা দীর্ঘস্থায়ী অভ্যাস ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ব্যথানাশকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো জরুরি।
এ ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মতামত দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।