Home Third Lead চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রতারণার ফাঁদ: রোগমুক্তির মিথ্যে আশ্বাসে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রতারণার ফাঁদ: রোগমুক্তির মিথ্যে আশ্বাসে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ফরিদুল আলম, ঢাকা: “মাত্র ৭ দিনে অ্যালার্জি থেকে চিরমুক্তি!” কিংবা “গ্যারান্টিসহ আজীবন সুফল”—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে এমন চোখধাঁধানো সব বিজ্ঞাপন। বিশেষ অফার বা ডিসকাউন্টের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র।
বিজ্ঞাপনের নিচে দেওয়া লিঙ্কে বা নামমাত্র চেম্বারে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত ভুক্তভোগী। কিন্তু এই তথাকথিত ‘জাদুকরী’ চিকিৎসার আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি আর প্রতারণার জাল।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালার্জি একটি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অবস্থা যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। এটি রাতারাতি বা মাত্র এক সপ্তাহে সম্পূর্ণ নির্মূল করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অথচ চটকদার এসব বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে মানুষ গ্রহণ করছে অনিবন্ধিত ভেষজ বা স্টেরয়েড মিশ্রিত ওষুধ। এতে সাময়িকভাবে উপসর্গ কমলেও পরবর্তীতে কিডনি বিকল হওয়া, লিভারের ক্ষতি এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো জটিল সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান
বাংলাদেশে অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি এবং বিভ্রান্তিকর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের অপতৎপরতা রুখতে কঠোর আইন রয়েছে:
১. ড্রাগস (অ্যাক্ট) ১৯৪০ ও ড্রাগ কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স ১৯৮২: অনুমোদনহীন বা ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে জেল এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
২. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯: পণ্যের মিথ্যা বিজ্ঞাপন বা সেবার মাধ্যমে গ্রাহককে প্রতারিত করলে এই আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
৩. মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০: বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া কেউ নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করলে তা অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রতিকার ও সুপারিশমালা
এই অপচিকিৎসার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সচেতন মহলের জন্য নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো কার্যকর করা জরুরি:
ডিজিটাল মনিটরিং জোরদার: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের উৎস শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।
বিএমডিসি ও ড্রাগ প্রশাসনের সক্রিয়তা: অনুমোদনহীন ক্লিনিক বা হাতুড়ে ডাক্তারদের চেম্বারে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।
ওষুধ বিক্রিতে কড়াকড়ি: ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া যেকোনো ধরণের অ্যালার্জির ওষুধ বা মিশ্রণ বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যমে সঠিক চিকিৎসার গুরুত্ব এবং অপচিকিৎসার কুফল সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে হবে।
অ্যালার্জি কোনো সাধারণ সমস্যা নয়; এর সঠিক সমাধানের জন্য স্বীকৃত চর্মরোগ বা অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। সস্তা বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে নিজের অমূল্য জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবেন না।
আমাদের এই সচেতনতামূলক প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করে সচেতন করুন।

আরও নানা বিষয় জানত ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com