বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,কুষ্টিয়া: ফেসবুকের নীল দুনিয়ায় শুরু হওয়া প্রেম, তারপর সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে মেহেরপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে হাজির দুই চীনা নাগরিক। শুনতে কোনো রোমান্টিক সিনেমার চিত্রনাট্য মনে হলেও, এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার বাস্তবতা।
শুক্রবার মেহেরপুরের টেংরামারি গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি আমাদের দেশের সহজ-সরল মেয়েদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: যখন ‘আই লাভ ইউ’ হয়ে গেল উধাও
মেহেরপুর সদর উপজেলার টেংরামারি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় এক চীনা নাগরিকের। সেই প্রেমের টানেই শুক্রবার সকালে বন্ধুসহ ওই গ্রামে হাজির হন দুই চীনা যুবক। গ্রামজুড়ে হইচই পড়ে যায়—সবাই ভেবেছিলেন হয়তো আরও একটি ‘বিদেশি জামাই’ পাওয়ার গল্প তৈরি হতে যাচ্ছে।
কিন্তু বাদ সাধলো আইন আর বাস্তবতা। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ৯৯৯-এ কল দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যখন বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার পরামর্শ দেয়, তখনই দেখা যায় আসল রূপ। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসা সেই ‘প্রেমিক’ মুহূর্তেই ভোল পাল্টে ফেলেন। বিয়েতে রাজি না হয়ে দুপুরেই ঢাকার বাসে চড়ে চম্পট দেন তারা।
সাবধান! ভাইরাল হওয়ার নেশায় জীবন যেন না হয় ছাই
মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আজমের কথায় উঠে এসেছে এক কঠিন সত্য। আমরা প্রায়ই দেখি—বিদেশি নাগরিক এ দেশে এসে বিয়ে করছেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। কিন্তু এরপরের গল্পটা কী?
আড়ালে থাকা অন্ধকার: বিয়ের পর অনেক বাংলাদেশি মেয়েকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের ওপর চলে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
পাচার চক্রের কারসাজি: র্যাব ও পুলিশের সাম্প্রতিক তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের নাম করে মেয়েদের চীনে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে।
পরিচয় গোপন: মেহেরপুরের ঘটনায় দেখা গেছে, বিদেশি ওই নাগরিকরা নিজের আসল পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেছেন, যা একটি বড় ধরনের রেড ফ্ল্যাগ (সতর্ক সংকেত)।
মেয়েদের ও অভিভাবকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
- ১. সোশ্যাল মিডিয়ার মায়াজাল: ফেসবুকে বা অন্য কোনো অ্যাপে বিদেশি নাগরিকের সাথে আলাপে অতি উৎসাহী হবেন না। মনে রাখবেন, পর্দার ওপারের মানুষটি পাচারকারী চক্রের সদস্যও হতে পারে।
- ২. আইনি যাচাই বাধ্যতামূলক: কোনো বিদেশি নাগরিক বিয়ে করতে চাইলে তার পাসপোর্ট, ভিসা এবং কর্মস্থলের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করুন। সরকারি অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের বিয়ে আইনি ঝুঁকিপূর্ণ।
- ৩. দূতাবাসের সতর্কতা: চীন দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সরকার বারবার অবৈধ বিয়ে ও মানব পাচার নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। এগুলো এড়িয়ে যাবেন না।
- ৪. সন্দেহ হলে সাহায্য নিন: কোনো বিদেশি নাগরিকের আচরণ বা প্রস্তাব সন্দেহজনক মনে হলে সাথে সাথে স্থানীয় থানা বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।
জীবনের সিদ্ধান্ত আবেগে নয়, বিবেক দিয়ে নিন। এক মুহূর্তের ভাইরাল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন যেন সারা জীবনের কান্নায় পরিণত না হয়।










