প্লাস্টিক দূষণ রোধে বিপ্লব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বর্তমান বিশ্ব প্লাস্টিক দূষণে জর্জরিত। উৎপাদিত প্লাস্টিকের ৯০ শতাংশেরও বেশি শেষ পর্যন্ত পরিবেশে মিশে গিয়ে আমাদের চারপাশকে আস্তাকুঁড়ে পরিণত করছে। প্লাস্টিকের এই লিনিয়ার বা একমুখী ব্যবহার—অর্থাৎ তৈরি করা, ব্যবহার করা এবং ফেলে দেওয়া—প্রকৃতির স্বাভাবিক চক্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। যেখানে প্রকৃতি প্রতিটি উপাদানকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে, সেখানে প্লাস্টিক পরিবেশে বছরের পর বছর জমা হয়ে ইকোসিস্টেম ও মানবস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
এই সংকট নিরসনে আমেরিকার রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। গত নভেম্বরে ‘নেচার কেমিস্ট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গবেষকরা প্লাস্টিকের এমন এক নতুন আণবিক কাঠামোর কথা জানিয়েছেন, যা ডিএনএ বা প্রোটিনের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের অনুকরণে তৈরি। এই প্লাস্টিক তার নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পর নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
গবেষণার প্রধান নেতৃত্বদানকারী এবং রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইউওয়েই গু জানান, প্রকৃতিতে প্রোটিন বা সেলুলোজের মতো অসংখ্য পলিমার থাকলেও সেগুলো কখনোই পরিবেশ দূষণ করে না। এর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে রসায়নের গভীরে। বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিকের অণুর ভেতরে রাসায়নিক উপাদানগুলোকে এমনভাবে বিন্যস্ত করেছেন যে, নির্দিষ্ট উদ্দীপকের সংস্পর্শে এলে এর মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধনগুলো দ্রুত ভেঙে পড়তে শুরু করবে।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো প্লাস্টিকের টিকে থাকার সময় নিয়ন্ত্রণ করা। যেমন, একটি ওয়ান-টাইম খাবারের পাত্র যা মাত্র কয়েক ঘণ্টা প্রয়োজন, সেটি এক দিনের মধ্যেই মিশে যাওয়ার মতো করে তৈরি করা যাবে।
অন্যদিকে, যে পণ্যগুলো দীর্ঘস্থায়ী হওয়া প্রয়োজন, তাদের রাসায়নিক গঠন এমনভাবে সাজানো হবে যাতে সেগুলো মাস বা বছরব্যাপী টিকে থাকে।
বিজ্ঞানীদের আশা, এই ‘স্মার্ট’ প্লাস্টিক ভবিষ্যতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং পরিবেশকে প্লাস্টিকের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেবে।
ভিজিট করুন: businesstoday24.com










