নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম: দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী চর রাজিবপুর। এখানে নদীর ধারে, বালু আর কাদার মাঝে গড়ে উঠেছে এক অনন্য জীবন। বন্যা, নদীভাঙন, দারিদ্র্য, সবকিছু সত্ত্বেও এখানকার মানুষ বাঁচে প্রাণভরে। আর সেই প্রাণের প্রকাশ দেখা যায় বিদ্যালয় ভবনের সামনে কর্দমাক্ত মাঠে, যেখানে একদল কিশোর ফুটবল খেলায় মগ্ন।
🌧️ মাঠের কাদা, জীবনের প্রতিচ্ছবি
বর্ষার পানি জমে মাঠকে পরিণত করেছে কর্দমাক্ত এক প্রান্তরে। শহরের চোখে এটি হয়তো অনুপযুক্ত খেলার জায়গা, কিন্তু চর রাজিবপুরের কিশোরদের কাছে এটি একমাত্র মুক্তির মঞ্চ।
- কাদা তাদের বাধা নয়, বরং প্রতিদিনের সংগ্রামের প্রতীক।
- পড়েও উঠে দাঁড়ানো, ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে তারা যেন জীবনের পাঠ নিচ্ছে লড়াই, ধৈর্য, দলবদ্ধতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের সামনে ছেলেরা ছুটছে, দৌড়াচ্ছে, পড়ে যাচ্ছে, আবার উঠে দাঁড়াচ্ছে। তাদের মুখে হাসি, চোখে আগুন। এই দৃশ্য যেন বলে—স্বপ্নের জন্য কাদা মাড়াতে হয়।
👟 জুতা নেই, কিন্তু স্বপ্ন আছে
অনেকের পায়ে নেই জুতা, কারো শরীরে নেই খেলার পোশাক। তবু তারা খেলছে।
- একটি পুরনো ফুটবল ঘিরে গড়ে উঠেছে তাদের বিকেলের আনন্দ।
- কিশোরদের চোখে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।
- কেউ হতে চায় মেসি, কেউ সাদউদ্দিন, কেউ শুধু চায় একটু প্রশংসা—“ভালো খেলিস রে!”
এই চরাঞ্চলে খেলাধুলার সুযোগ সীমিত। নেই উন্নত মাঠ, নেই কোচিং, নেই স্পন্সর। কিন্তু আছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
🏫 বিদ্যালয় ভবন: নীরব সাক্ষী ও আশ্রয়
বিদ্যালয় ভবনটি শুধু শিক্ষার কেন্দ্র নয়, এটি চরবাসীর সামাজিক জীবনের অংশ।
- শিক্ষা ও খেলাধুলা এখানে একে অপরের পরিপূরক।
- বিদ্যালয়ের মাঠে বিকেলে ফুটবল খেলা হয়, সকালে হয় পাঠদান।
- শিক্ষকরা বলেন, “খেলাধুলা করলে ছেলেরা স্কুলে আসে, মনোযোগ বাড়ে।”
এই ভবন যেন চর রাজিবপুরের ভবিষ্যতের প্রতীক—যেখানে শিক্ষা, খেলাধুলা, এবং সামাজিক বন্ধন একত্রে গড়ে উঠছে।
🌍 চরাঞ্চলের বাস্তবতা ও সম্ভাবনা
চর রাজিবপুরের মতো অঞ্চলে জীবন কঠিন।
- বর্ষায় ডুবে যায় ঘরবাড়ি,
- শুকনায় বালুতে ফাটে জমি,
- চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ—সবই সীমিত।
তবু এখানকার কিশোররা স্বপ্ন দেখে।
- তারা চায় একটি ভালো মাঠ,
- একজন কোচ,
- একটি টিম জার্সি।
এই চাওয়া শুধু খেলার জন্য নয়, এটি আত্মপরিচয়ের জন্য। তারা চায় শহরের মানুষ জানুক—চরেও প্রতিভা আছে।
📸 ছবির ভাষা: একটি মুহূর্ত, শত গল্প
এই ছবিটি শুধু একটি খেলার দৃশ্য নয়, এটি একটি সমাজের প্রতিচ্ছবি।
- কিশোরদের দৌড়ঝাঁপ,
- বিদ্যালয় ভবনের ছায়া,
- কাদার মাঝে ফুটবল—সব মিলিয়ে এটি এক জীবন্ত গল্প।
এই ছবি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আনন্দ, স্বপ্ন, সংগ্রাম—সবই একসাথে থাকে গ্রামীণ জীবনে।
🎯 ভবিষ্যতের ভাবনা
চর রাজিবপুরের কিশোরদের জন্য কী করা যায়?
- স্থানীয় প্রশাসন ও NGO-রা একটি উন্নত মাঠ তৈরি করতে পারে।
- স্কুলভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যেতে পারে।
- মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের গল্প তুলে ধরলে তারা পাবে স্বীকৃতি।










