Home বিনোদন ফেসবুকে প্রেম ও ৪০ বছরের ব্যবধান: দম্পতির অন্যরকম ভালোবাসা

ফেসবুকে প্রেম ও ৪০ বছরের ব্যবধান: দম্পতির অন্যরকম ভালোবাসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফেসবুক মেসেজে শুরু: ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় যখন বিশ্ব থমকে ছিল, তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্টিভের একটি বার্তা পান ক্লেয়ার। সেই একটি মেসেজ থেকেই শুরু হয় তাদের কথোপকথন। স্টিভ তখন যুক্তরাষ্ট্রে অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছবির মাধ্যমেই তাদের পরিচয় এবং সেই পরিচয় দ্রুত প্রেমে রূপ নেয়।
প্রথম দেখা ও বিয়ে: ক্লেয়ার জানান, স্টিভ কেনিয়ায় ফিরে আসার পর তাদের প্রথম দেখা হয়। স্টিভ ডিভোর্সি ছিলেন এবং তাদের মধ্যে ৪০ বছরের বিশাল এক বয়সের ব্যবধান ছিল। কিন্তু ক্লেয়ার জানতেন, তিনি ঠিক এই ধরনের সম্পর্কই খুঁজছিলেন। দেখা হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তারা আইনিভাবে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন ক্লেয়ারের বয়স ছিল ২৪ এবং স্টিভের ৬৪।
বন্ধ্যাত্ব মোকাবিলায় পাশে থাকা: ক্লেয়ারের জীবনের একটি কঠিন অধ্যায় হলো তার শারীরিক সমস্যা। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতেন এবং ২০১৬ সালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি ডিম্বাশয় (ovary) অপসারণ করতে হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, প্রাকৃতিকভাবে সন্তান ধারণ করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব।
ক্লেয়ার বলেন: “আমি আমার এই সমস্যার কথা স্টিভকে অকপটে জানাই। স্টিভের নিজের সন্তান থাকায় এবং তার বয়স ও অভিজ্ঞতার কারণে সে বিষয়টিকে খুব সহজভাবে গ্রহণ করেছে। আমার সমবয়সী কোনো ছেলে হয়তো এটি মেনে নিত না।”
এক সুখী দাম্পত্য: বিয়ের চার বছর পার হয়ে গেলেও তাদের মধ্যে নেই কোনো বড় ঝগড়া বা বিবাদ। ক্লেয়ার তার স্বামীকে অত্যন্ত সহনশীল এবং সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঠাট্টা করে তিনি তাদের সম্পর্ককে ‘বাবা ও মেয়ের মতো নির্মল’ বলে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে তারা আইভিএফ (IVF) এর মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই দম্পতি প্রমাণ করেছেন যে, ভালোবাসার কাছে বয়স কোনো বাধা নয়।