Home First Lead পাঁচ কোটি পরিবারের ভাগ্যবদল: ফ্যামিলি কার্ডে ‘স্মার্ট’ সহায়তার পথে বাংলাদেশ

পাঁচ কোটি পরিবারের ভাগ্যবদল: ফ্যামিলি কার্ডে ‘স্মার্ট’ সহায়তার পথে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ বিষয়ক আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারকে সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি এটি বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।
সভার মূল সিদ্ধান্তসমূহ একনজরে
বৈঠক শেষে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীরা প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী প্রধান সিদ্ধান্তগুলো হলো:
  • লক্ষ্যমাত্রা: প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
  • সহায়তার ধরণ: কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানান, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।
  • অগ্রাধিকার: সহায়তার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র এবং নারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
  • সময়সীমা: পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হবে।
বিশ্লেষণ: কেন এই ফ্যামিলি কার্ড?
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যামিলি কার্ড চালুর এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে (Social Safety Net) একটি বড় ধরনের সংস্কার। এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী:
১. সরাসরি সুবিধা প্রদান: নগদ অর্থ সরাসরি কার্ডের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
২. নারীর ক্ষমতায়ন: ফ্যামিলি কার্ডে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পরিবারের অভ্যন্তরে নারীর আর্থিক সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
৩. ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন জানিয়েছেন, প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এতে করে প্রকৃত অভাবী বা হতদরিদ্ররা আগে সুবিধা পাবেন, যা সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করবে।
৪. মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা: বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট আয়ের ও দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে এই নগদ সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার হিসেবে কাজ করবে।
বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সফল করতে সঠিক তথ্যভাণ্ডার বা ডেটাবেস তৈরি করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকার যদি ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো শনাক্ত করতে পারে, তবে এটি দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিহাসের অন্যতম সফল প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত হবে।
ঈদের আগে পাইলট প্রকল্পের শুরুটা সফল হলে, এটি সাধারণ মানুষের উৎসবে বাড়তি আনন্দ যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে আপনার মূল্যবান মতামত মন্তব্য বক্সে শেয়ার করুন।