Home আকাশ পথ ফ্যালকন ৯ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ

ফ্যালকন ৯ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নাসার সাথে চুক্তির আওতায় স্পেসএক্স-এর ৩৪তম বাণিজ্যিক পুনঃসরবরাহ অভিযান (Commercial Resupply Mission) আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। নতুন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:০৫ মিনিটে (EDT) ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স ৪০ থেকে একটি ফ্যালকন ৯ রকেটের সাহায্যে এটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

স্পেসএক্স-এর এই মহাকাশযানটি প্রায় ৬,৫০০ পাউন্ড মালামাল নিয়ে মহাকাশ স্টেশনের ‘এক্সপেডিশন ৭৪’ ক্রুদের উদ্দেশ্যে ছুটে চলেছে। আগামী ১৭ মে, রবিবার সকাল প্রায় ৭টায় এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টেশনের হারমনি মডিউলের ফরওয়ার্ড পোর্টে নোঙর (dock) করার কথা রয়েছে।

নাসার এই লাইভ ডকিং কার্যক্রমটি সকাল ৫:৩০ টা থেকে নাসা+, আমাজন প্রাইম এবং সংস্থার ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কীভাবে নাসার এই কন্টেন্ট দেখা যাবে, তাও জানা যাবে তাদের মাধ্যমে।

মহাকাশ স্টেশনের ক্রুদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়াও এই ড্রাগন মহাকাশযানটি বেশ কিছু নতুন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম বহন করছে। এর মধ্যে রয়েছে পৃথিবী-ভিত্তিক সিমুলেটরগুলো ঠিক কতটা নিখুঁতভাবে মাইক্রোগ্রাভিটি বা মহাকর্ষহীন পরিবেশ তৈরি করতে পারে তা যাচাইয়ের একটি প্রকল্প; অস্টিওপোরোসিসের মতো ভঙ্গুর হাড়ের রোগের চিকিৎসায় কাঠ থেকে তৈরি বিশেষ বোন স্ক্যাফোল্ড; এবং মহাকাশে লোহিত রক্তকণিকা ও প্লিহার (spleen) পরিবর্তন মূল্যায়নের জন্য গবেষকদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।

এছাড়াও ড্রাগন মহাকাশযানটি পৃথিবীর চারপাশের চার্জড পার্টিকেল বা আধানযুক্ত কণা নিয়ে গবেষণার জন্য একটি নতুন যন্ত্র বহন করছে, যা মূলত পাওয়ার গ্রিড এবং স্যাটেলাইটের ওপর প্রভাব ফেলে। একই সাথে গ্রহ কীভাবে গঠিত হয় সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার একটি অনুসন্ধান কাজ এবং পৃথিবী ও চাঁদ থেকে প্রতিফলিত সূর্যালোকের অত্যন্ত নিখুঁত পরিমাপ নেওয়ার জন্য ডিজাইন করা একটি বিশেষ ইনস্ট্রুমেন্টও এতে রয়েছে।

জীববিজ্ঞান, জৈবপ্রযুক্তি, ভৌত বিজ্ঞান এবং পৃথিবী ও মহাকাশ বিজ্ঞানের ওপর কক্ষপথে থাকা এই পরীক্ষাগারে যে শত শত গবেষণা চলছে, এগুলো তারই সামান্য অংশ মাত্র। দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবিচ্ছিন্নভাবে বসবাস ও কাজ করে আসছে, যা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করছে এবং পৃথিবীতে অসম্ভব এমন সব যুগান্তকারী গবেষণা সফল করছে।

এই মহাকাশ স্টেশনটি নাসাকে মানব মহাকাশযাত্রার চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে ও তা কাটিয়ে উঠতে, নিম্ন আর্থ-অরবিটে (low Earth orbit) বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করতে এবং আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদে ও পরবর্তীতে মঙ্গলে দীর্ঘমেয়াদী মিশনের ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করছে।

আগামী জুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ড্রাগন মহাকাশযানটি স্টেশনে অবস্থান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর এটি সময়সংবেদনশীল বিভিন্ন গবেষণা ও মালামাল নিয়ে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা হবে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে সমুদ্রে অবতরণ (splash down) করবে।


 বিজ্ঞানের নানা খবর জানতে businesstoday24.com ফলো করুন।