Home Second Lead শিপিং লাইন্সের ‘ক্যাপাসিটি ডিসিপ্লিন’: আকাশচুম্বী ফ্রেইট রেট

শিপিং লাইন্সের ‘ক্যাপাসিটি ডিসিপ্লিন’: আকাশচুম্বী ফ্রেইট রেট

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বিশ্ববাজারে একের পর এক নতুন কনটেইনার জাহাজ যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কমছে না সমুদ্রগামী পণ্যের পরিবহন ভাড়া । বৈশ্বিক শিপিং লাইন্স বা ক্যারিয়ারগুলো পরিকল্পিতভাবে ‘ক্যাপাসিটি ডিসিপ্লিন’ বা কৃত্রিম উপায়ে জাহাজের ধারণক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মূলত ট্রিপ বাতিল (Blank Sailings), রুট পুনর্গঠন এবং জাহাজের গতি কমিয়ে দেওয়ার (Slow Steaming) মতো কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট ধরে রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, বাজারে পণ্যের বা সেবার সরবরাহ বাড়লে তার দাম কমে যাওয়ার কথা। অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে বৈশ্বিক শিপিং রুটে চাহিদার তুলনায় জাহাজের সংখ্যা এবং সামগ্রিক ধারণক্ষমতা অনেক বেশি। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় শিপিং জায়ান্টগুলো নিজেদের মুনাফা ধরে রাখতে এবং ফ্রেইট রেটের পতন ঠেকাতে অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্গো ধারণক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছে।

শিপিং সার্কেলের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের প্রধান প্রধান রুটগুলোতে পূর্বনির্ধারিত অসংখ্য ট্রিপ বা শিডিউল বাতিল করা হচ্ছে, যা শিপিংয়ের ভাষায় ‘ব্ল্যাঙ্ক সেলিং’ নামে পরিচিত। এর ফলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা সময়মতো কনটেইনার বুকিং দিতে পারছেন না। পাশাপাশি, কার্বন নিঃসরণ কমানোর অজুহাতে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের নামে জাহাজের গতি কমিয়ে (Slow Steaming) ট্রানজিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা বাজারে জাহাজের কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করছে।

 আন্তর্জাতিক রুটের ভাড়াচিত্র: চলতি মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে বিশ্ববাজারের ফ্রেইট রেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণের কারণে ভাড়া এখনো চড়া অবস্থানে রয়েছে।

এশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব উপকূল (US East Coast): এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় বন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহনের ভাড়া ক্রমাগত বাড়ছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে প্রতি FEU (চল্লিশ ফুটের কনটেইনার) ফ্রেইট রেট প্রায় ৩,৮০০ মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

এশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম উপকূল (US West Coast): তুলনামূলক কম দূরত্বের এই রুটেও ভাড়ার চাপ কম নয়। এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলোর জন্য প্রতি FEU কনটেইনারের ভাড়া বর্তমানে প্রায় ২,৮০০ ডলারে অবস্থান করছে।

এশিয়া-উত্তর ইউরোপ রুট: ইউরোপীয় রুটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এশিয়া থেকে উত্তর ইউরোপের প্রধান প্রধান বন্দরগুলোতে পণ্য পাঠানোর জন্য প্রতি TEU (বিশ ফুটের কনটেইনার) ভাড়া দিতে হচ্ছে প্রায় ১,৫০০ মার্কিন ডলার।

লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরের সংকটের কারণে এমনিতেই জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এর ওপর শিপিং লাইনগুলোর এই কৃত্রিম ধারণক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের কৌশল বিশ্ব বাণিজ্যকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আগামী দিনগুলোতে সাধারণ আমদানিকৃত পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

ভিজিট করুন www.businesstoday24.com