ফরিদুল আলম, ঢাকা: ঢাকার আশেপাশে কম দামে ফ্ল্যাট খুঁজছেন? ভাবছেন বড় কোম্পানির চেয়ে লাখ দশেক টাকা তো সাশ্রয় হলো! কিন্তু থামুন। এই সামান্য সাশ্রয়ের আড়ালে আপনি কি নিজের অজান্তেই কোনো ভয়াবহ ফাঁদে পা দিচ্ছেন না তো?
চকচকে টাইলস আর নতুন রঙের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এমন কিছু সত্য আছে, যা জানলে আপনার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে।
ব্যক্তিমালিকানাধীন ফ্ল্যাট কেনার আগে নিচের এই ৭টি ‘বিষবৃক্ষ’ চিনে নিন:
১. দলিলে শুভঙ্করের ফাঁকি: আপনি কি আদৌ মালিক?
অনেক সময় জমির আসল মালিক মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশদের মধ্যে ঝামেলা থাকে। এক ভাই ফ্ল্যাট বিক্রি করছে তো অন্য বোন এসে মামলা ঠুকে দিচ্ছে। আপনি যখন টাকা দিয়ে বুকিং দেবেন, তখন জানবেনই না যে ওই জমিটি আসলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত।
ফলাফল? টাকাও গেল, ফ্ল্যাটও স্বপ্ন হয়ে থাকল।
২. রাজউকের বুলডোজার কি আপনার দরজায়?
ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনের ৯০ শতাংশই নকশা বহির্ভূত। রাজউকের বা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিডিএর অনুমোদন না নিয়ে বা অনুমোদনের চেয়ে বেশি তলা নির্মাণ করা এসব ভবন আসলে ‘টাইম বোমা’। যেকোনো দিন উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে আপনার সারাজীবনের সঞ্চয় স্রেফ ধুলোয় মিশে যাবে।
৩. রডের বদলে বাঁশ? নির্মাণের ভয়াবহ গুণগত মান
বড় কোম্পানির মতো এখানে কোনো কোয়ালিটি কন্ট্রোল থাকে না। সিমেন্ট কম দেওয়া, নিম্নমানের রড ব্যবহার করা বা ভূমিকম্প সহনশীলতা উপেক্ষা করা এখানে সাধারণ বিষয়। সামান্য আঘাতেই এই ভবন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে। আপনি কি পরিবার নিয়ে এমন অনিরাপদ ছাদে থাকতে চান?
৪. বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ও অগ্নিকাণ্ডের স্বর্গরাজ্য
ব্যক্তিগত বাড়িতে প্রফেশনাল ফায়ার সেফটি প্ল্যান থাকে না। সরু সিঁড়ি আর নিম্নমানের তারের জঞ্জাল আপনার ফ্ল্যাটকে যেকোনো সময় অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করতে পারে। এক মিটার থেকে অনেকগুলো সংযোগ দেওয়ায় শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি এখানে শতভাগ।
৫. রেজিস্ট্রি নামক দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রণা
বুকিং তো নিলেন, কিন্তু ফ্ল্যাট কি নিজের নামে বুঝে পাবেন? অনেক ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিলেও বছরের পর বছর রেজিস্ট্রি দেয় না। রেজিস্ট্রি ছাড়া ফ্ল্যাট থাকা আর পরের বাড়িতে ভাড়া থাকা একই কথা। আপনি চাইলেও সেই ফ্ল্যাট পরে বিক্রি বা ব্যাংক লোন নিতে পারবেন না।
৬. পার্কিং আর কমন স্পেসের দখলদারি যুদ্ধ
এখানে সিড়িঘর বা ছাদ যেন ‘জোর যার মুল্লুক তার’। মালিকের খামখেয়ালিপনায় আপনার কেনা পার্কিংয়ে হয়তো অন্য কেউ গাড়ি রাখছে। কমন স্পেস নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে এমন তিক্ততা তৈরি হয় যে, শান্তিতে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
৭. মালিকের ‘রাজতন্ত্র’: আপনি কি আসলে কেনা গোলাম?
সবচেয়ে বড় ভয়ংকর দিক হলো যখন মূল মালিক ওই ভবনে থাকেন। দারোয়ান আপনার কথা শুনবে না, গেট খোলার নির্দিষ্ট সময় থাকবে, এমনকি আপনার মেহমান আসা নিয়েও মালিক নাক গলাবেন। টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেও আপনাকে থাকতে হবে ভাড়ারটিয়ার মতো দমে দমে। আপনি কি নিজের টাকায় নিজের স্বাধীনতা বিক্রি করতে প্রস্তুত?