বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রাজশাহী: মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় ১৮ বছরের এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা সমাজকে এক ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে।
রোববার (১০ মে ২০২৬) কাজলা বিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা তুষারকে যেভাবে গাছের সাথে বেঁধে পিটানো হয়েছে, তা কেবল শারীরিক আঘাত নয়, বরং দেশের বিদ্যমান আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক চরম অবজ্ঞা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে এই বর্বরোচিত ঘটনার চিত্র জনসম্মুখে আসে।
প্রকাশিত ৪৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দুজন যুবক তুষারকে শক্ত রশিতে বেঁধে রেখেছে। ভিডিও ক্যামেরা সচল করার সংকেত পাওয়ার পরপরই শুরু হয় লাঠিপেটা। মাত্র পৌনে এক মিনিটে অন্তত ১৪ বার সজোরে আঘাত করা হয় ভুক্তভোগীকে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা
কিশোরটি ‘হৃদয়’ নামের একজনের কাছে বারবার প্রাণভিক্ষা চাইলেও মন গলেনি নির্যাতনকারীদের। এই দৃশ্যটি প্রমাণ করে যে, অপরাধ সংঘটনের চেয়েও সেই অপরাধের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করার এক বিকৃত উল্লাস এখন অপরাধীদের মাঝে কাজ করছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চুরির অপবাদ দিয়ে এই নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির জানিয়েছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ইতোমধ্যে অভিযানে নেমেছে এবং ভুক্তভোগীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন সাধারণ মানুষ মনে করে তারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার করতে পারবে, তখনই সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়। চুরির বিচার করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া থাকলেও, মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করে ভিডিও ভাইরাল করা একটি গভীর সামাজিক ব্যাধির প্রতিফলন।
এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর ডালপালা মেলতে না পারে।