আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে রাভি নদীর স্রোত আর বাদশাহী মসজিদের মিনারে যখন বসন্তের হাওয়া লাগে, তখন লাহোর কেবল জাগে না—উল্লাসে ফেটে পড়ে। দীর্ঘ ২০ বছরের দীর্ঘশ্বাস আর আইনি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আগামী ৬, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি লাহোরের আকাশে আবারও উড়তে যাচ্ছে ‘পতঙ্গ’। পাঞ্জাব সরকারের নতুন নির্দেশনায় নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী এই ‘বসন্ত’ উৎসব।
ঐতিহ্যের শিকড়ে ফেরা
বসন্ত উৎসবের মূল প্রোথিত প্রাচীন ‘বসন্ত পঞ্চমী’র মাঝে। পাঞ্জাবের সর্ষে খেতের হলুদ গালিচা আর দেবী সরস্বতীর আরাধনার মধ্য দিয়ে যার শুরু। তবে লাহোরে এই উৎসব ধর্ম-বর্ণের গণ্ডি পেরিয়ে হয়ে উঠেছিল নিখাদ পাঞ্জাবি সংস্কৃতি।
মুঘল সম্রাটদের আমল থেকে শুরু করে মহারাজা রঞ্জিত সিং-এর রাজত্বকাল পর্যন্ত লাহোর দুর্গ আর অলিগলি সেজে উঠত গাঁদা ফুলের মালায় আর হলুদ পাগড়িতে। ছাদ থেকে ছাদে কানফাটানো চিৎকার শোনা যেত— “বো কাটা!”
অন্ধকারের দুই দশক
বিগত দুই দশক লাহোরের আকাশ ছিল বিষণ্ণ ও নীরব। কাঁচের গুঁড়ো দেওয়া ধারালো সুতা (মাঞ্জা) এবং ধাতব তারের ব্যবহারে প্রাণহানির ঘটনায় নেমে এসেছিল নিষেধাজ্ঞা। উৎসবের আনন্দ রূপ নিয়েছিল শোকে। যারা শৈশব থেকে ঘুড়ি উড়িয়ে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে বসন্ত হয়ে গিয়েছিল এক ‘প্রিয় অতীত’। আনাকলির প্রবীণ বাসিন্দা আনোয়ার বাজওয়া আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন:
“বসন্ত কেবল একটি দিন ছিল না, ওটা আমার অস্তিত্বের অংশ ছিল। শূন্য আকাশটা দেখে মনে হতো শৈশবের একটা টুকরো হারিয়ে ফেলেছি।”










