Home Third Lead মাদারীপুরে মহাসড়কে ঝরল ৭ প্রাণ: বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষ

মাদারীপুরে মহাসড়কে ঝরল ৭ প্রাণ: বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষ

ছবি সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের (অটোরিকশা) মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের আরও অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘটকচর ও মিলগেট এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘সার্বিক পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগতির বাস মিলগেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে (ডোবা) পড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে থাকার কারণেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
হতাহতের পরিচয়: নিহত সাতজনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন পুরুষ। তাঁদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে: ১. রুমান (২৫), পিতা- শাহ আলম, ঘটকচর এলাকা। ২. পান্নু মুন্সি (৫০), পিতা- নেছার উদ্দিন মুন্সি, শকুনি/কলেজ রোড এলাকা। ৩. সাগর বেপারী (২৬), পিতা- জসিম বেপারী, দক্ষিণ কুনিয়া পাড়া (ইজিবাইক চালক)। বাকি চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ শুরু করে। মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ইজিবাইকের চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাসের নিচে চাপা পড়ে এবং ডোবার পানিতে ডুবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও রেকার দিয়ে বাসটি উদ্ধারের কাজ চালানো হয় এবং পুরো ডোবাটি তল্লাশি করা হয়েছে।
 আহত ১০ জনকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা প্রায় ৩ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে।
স্থানীয় ক্ষোভ: স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের এই অংশটি অত্যন্ত সরু এবং ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত এখানে দুর্ঘটনা ঘটায় এলাকাটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে এই সড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুলিশ ইনচার্জ এএসআই আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।