বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কুমিল্লা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা বাজারে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সহিংসতা
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতার শুরু হয় গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে। শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা গ্রামে বিএনপি কর্মী বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এর কিছুক্ষণ পরই ধনিজকরা বাজার এলাকায় স্থানীয় বিএনপির একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাতে বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা এলাকায় জামায়াত নেতা মু. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার প্রতিষ্ঠিত আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদরাসার একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে গাছবাড়িয়া তেলিপুকুর পাড়, ধনিজকরা ও সমেশপুর এলাকায় জামায়াতের তিনটি নির্বাচনী কার্যালয় এবং একটি মুদি দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ ও ক্ষয়ক্ষতি
রাতভর উত্তেজনার জেরে সোমবার দুপুরে ধনিজকরা বাজারে দুই পক্ষের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ইসমাইল গাজী।
শুভপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেন।
জামায়াত সমর্থক তাসকিনসহ আরও অনেকে।
পরবর্তীতে উপজেলার মুন্সীরহাট এলাকাতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যেখানে ৪টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুল হুদা অভিযোগ করেছেন, জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মীদের বাড়ি ও কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও একই আসনের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসাইন দাবি করেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি তাদের কার্যালয় ও মাদরাসার বাসে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ধনিজকরা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।