কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: বসন্তের উত্তাপের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে চড়ছে বাংলার রাজনীতির পারদ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল—এই দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ মে।
২০২১ সালের দীর্ঘ আট দফার নির্বাচনের তুলনায় এবার মাত্র দুই দফায় ভোট করানোর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক নজরে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট
নির্বাচনের দিনক্ষণ প্রস্তুতির শুরু থেকেই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলো তাদের রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত । এবারের লড়াই মূলত ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তৃণমূল ও বিজেপির দ্বৈরথই প্রধান উপজীব্য।
ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাদের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে (যেমন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী) হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে। সম্প্রতি সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA) মেটানোর ঘোষণা, পুরোহিত এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের মূল স্লোগান আবারও ‘বাঙালি অস্মিতা’ এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ।
বিজেপি গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলকে ভিত্তি করে এবার অল-আউট ঝাঁপাতে চাইছে। উত্তরবঙ্গ ও মতুয়া প্রভাবিত এলাকাগুলোতে তাদের আধিপত্য বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গেরুয়া শিবির এবার দুর্নীতির অভিযোগ এবং কর্মসংস্থানের অভাবকে প্রধান ইস্যু করেছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট নিশ্চিত করতে তারা ‘মিশন মোড’-এ কাজ করছে।
গত নির্বাচনে শূন্য হাতে ফিরলেও, এবার বামফ্রন্ট (বিশেষ করে সিপিআইএম) তরুণ প্রজন্মের প্রার্থীদের সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে বামেরা এবার নিচুতলার সংগঠনে জোর দিচ্ছ।
ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতা দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু আসনে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও চ্যালেঞ্জ
- ভোট পরবর্তী হিংসা: নির্বাচন কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সহিংসতামুক্ত নির্বাচন উপহার দেওয়া। কমিশন ইতিমধ্যে বিতর্কিত পুলিশ অফিসারদের তালিকা তলব করেছে।
- নতুন ভোটার: এবার ৫.২৩ লক্ষেরও বেশি নতুন ভোটার (১৮-১৯ বছর) ভোট দেবেন, যাদের রায় ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।
- দুই দফার ভোট: আট দফার বদলে দুই দফায় ভোট হওয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে সামলানো হবে, সেদিকে নজর থাকবে সবার।
- পশ্চিমবঙ্গের এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন কেবল রাজ্যের নয়, বরং দেশের জাতীয় রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিগত (২০২১) নির্বাচনের ফলাফল ও দলভিত্তিক অবস্থান নিচে তুলে ধরা হলো:









