বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, নোয়াখালী: শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে একটা কম্বলের বড় প্রয়োজন ছিল সাতচল্লিশ বছর বয়সী ওই বিধবা নারীর। অভাবের সংসারে যখন একটু সাহায্যের আশ্বাস মেলে, তখন মানুষ ভরসা করে। কিন্তু সেই মানবিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এক রাজনৈতিক কর্মী যে বীভৎসতা দেখালেন, তা হার মানিয়েছে পশুর বর্বরতাকেও। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ছলে তিনি পেতে রেখেছিলেন লালসার এক মরণফাঁদ।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে মানবতার সব সীমা লঙ্ঘন করে এক অসহায় বিধবা নারীর সম্ভ্রম ও বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত কাউছার (৪০)। শীতের কম্বল দেওয়ার নাম করে গত ২৮ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে সে ওই নারীর ওপর চালায় অবর্ণনীয় পাশবিকতা।
বিশ্বাসের সুযোগে পৈশাচিকতা
জানা গেছে, অভিযুক্ত কাউছার আগে থেকেই ওই নারীর পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। কয়েক মাস আগে ১০টি রিং দিয়ে টয়লেট বসানোর ব্যবস্থাও করে দেয় সে। সেই সুসম্পর্কের সূত্র ধরেই গত ২৭ ডিসেম্বর শীতের কম্বল দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ফোন করে কাউছার।
পরদিন সকালে ওই নারী যখন একা কাউছারের বাড়িতে যান, তখনই বেরিয়ে আসে তার আসল চেহারা। জনশূন্য বাড়িতে একা পেয়ে ওই নারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। সাহায্য করতে আসা ‘ভাই’ বা ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’র মুখোশ মুহূর্তেই ছিঁড়ে যায়।
মা-মেয়ের জীবনের ওপর হুমকি
এই নারকীয় ঘটনার পর ভুক্তভোগী যাতে মুখ খুলতে না পারেন, সেজন্য তাকে এবং তার ২০ বছর বয়সী মেয়েকে খুনের হুমকি দেয় কাউছার। দীর্ঘ ২১ দিন প্রাণভয়ে এবং সামাজিক অপবাদের আশঙ্কায় পাথর হয়ে ছিলেন ওই নারী।
অবশেষে ন্যায়বিচারের আশায় রোববার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। কান্নাসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন:
“মানুষ এতটা নিচে নামতে পারে? আমি ওর বিচার চাই। ও শুধু আমার ইজ্জত নেয়নি, আমাকে আর আমার মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে চেয়েছিল।”










