ফরিদুল আলম, ঢাকা: শহরের ধূসর ইট-পাথরের ক্যানভাসে আজ রঙের প্রলেপ। একদিকে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে পালিত ভালোবাসা দিবস। পঞ্জিকার পরিবর্তনে এই দুই উৎসব এখন মিলেমিশে একাকার। রাজধানী ঢাকা আজ যেন এক জীবন্ত উৎসবের নগরী, যেখানে হলুদ বাসন্তী আর ভালোবাসার লাল মিলে তৈরি করেছে এক অপার্থিব আবহ।
উৎসবের সাজে রঙিন নগরী
ভোর হতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চারুকলা, রমনা পার্ক এবং ধানমন্ডি লেকে মানুষের ঢল নামে। তরুণীদের পরনে বাসন্তী রঙের শাড়ি আর মাথায় ফুলের টায়রা, অন্যদিকে ছেলেদের রঙিন পাঞ্জাবিতে ফুটে উঠেছে ফাগুনের আমেজ। শাহবাগের ফুলের দোকানগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই; গোলাপ, গাঁদা আর জিপসির সুবাসে ম ম করছে চারপাশ।
সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর রাজধানী
এবার ‘জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পর্ষদ’-এর মূল আয়োজনটি প্রথমবারের মতো চারুকলার বকুলতলার পরিবর্তে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টায় যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসবে নাচ, গান, আবৃত্তি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
পাশাপাশি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) চলছে ‘বসন্ত দিনে ভালোবাসার গান’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন—সবখানেই আজ বসন্তের দখিন হাওয়ায় প্রিয়জনের হাত ধরে হাঁটার দৃশ্য চোখে পড়ছে।
যান্ত্রিক জীবনে এক চিলতে প্রশান্তি
প্রতিদিনের ল্যাপটপ, ফাইল আর যানজটের ক্লান্তি ভুলে আজ মেগাসিটির মানুষ মেতেছে প্রাণের উৎসবে। শাহবাগে ঘুরতে আসা এক চাকুরিজীবীর ভাষায়,
“যান্ত্রিক জীবনে এমন রঙের খুব প্রয়োজন ছিল। ল্যাপটপের পর্দার বাইরেও যে একটা রঙিন পৃথিবী আছে, আজ এই জোড়া উৎসব তা মনে করিয়ে দিচ্ছে।”










